328025

জ্ঞান অর্জনের জন্য বিধর্মীদের বই পড়া জরুরী: দারুল উলুম দেওবন্দ

নিউজ ডেস্ক।। : ভারতের প্রশিদ্ধ ও সর্ববৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে স্নাতক উত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য বেশকিছু বিষয়ে তাখাস্সুস (অনার্স) করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাদিস, আরবি সাহিত্য, ইফতা, তাফসির, কম্পিউটার, ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পসহ হিন্দু ও খ্রিস্ট দর্শন বিভাগ।

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বেনারশী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ভ্রান্ত ধারণা ও ভ্রান্ত সম্প্রদায়গুলোর অনুররণ ও তা প্রত্যাখ্যানের জন্য অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়েও শিক্ষা দিয়ে থাকি।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচার করা। শিক্ষার্থীদের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ শিক্ষাদানের মাধ্যমে ইসলামী চেতনাকে জনপ্রিয় ও জাগ্রত করা।

মুফতি কাসেম জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে দেওবন্দের মজলিসে শূরা শিক্ষার্থীদের হিন্দু ধর্ম বোঝার জন্য এই প্রস্তাব পাস করেছিল। তারপর থেকে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের কোরআন ও হাদিসের পাশাপাশি হিন্দু দর্শন এবং খ্রিস্টধর্মের শিক্ষার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

মুফতি আবুল কাসেম আরও বলেন, জনসাধারণের মালুমাত (তথ্যজ্ঞান) ও ইলমে নাফে’র ( প্রকৃত উপকারী জ্ঞান) মধ্যে পার্থক্য বোঝাও জরুরি। আল্লাহ তালায়ার শোকর, আমাদের শিক্ষকরা প্রকৃত উপকারী জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন। ইসলামী আইনশাস্ত্রের শিক্ষা উপকারী জ্ঞানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান ও অন্যান্য ধর্মীয় জ্ঞান সাধারণ জ্ঞান হিসেবে পড়ানো হয়।

তিনি বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দের গ্রন্থগারে দুই লাখের ও বেশি বই এবং পনেরো শতাধিক পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এটি ভারতের অদর্শ গ্রন্থগার, যা বর্তমান বিশ্বের আলেমদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৬৬ সালের ৩০ মে মাসে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। ভারতসহ পুরো বিশ্বে এই মাদ্রাসার স্বতন্ত্র স্কীকৃত। সূত্র: তাসির উর্দু

ad

পাঠকের মতামত