সারারাত স্ত্রীর লা’শ নিয়ে চায়ের দোকানে কাটালেন স্বামী!
নিউজ ডেস্ক।। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্বেচ্চাচারিতায় সারা রাত স্ত্রীর লা’শ নিয়ে চায়ের দোকানে কাটালেন স্বামী। অথচ কোভিট -১৯ এর রোগী না, ছিল না কোন উপসর্গ। তবুও অমানবিক আ’চরণের শি’কার হলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মো. জলিল আকন।
জানা গেছে, মো. জলিল আকন এর স্ত্রী এক সন্তানের জননী কহিনুর বেগম (৩৫)। তিনি ডায়েরিয়ায় আ’ক্রান্ত হন। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ১১টায় কহিনুর মারা যান। ওইসময় বৈরি আবহাওয়া।
জলিল আকনের বসতঘরটি পুড়ে গেছে একমাস আগে। সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন অন্যের বাড়ির বৈঠকখানায়। তাই স্ত্রীর লা’শ নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা ছিল না প্রান্তিক আয়ের মানুষ জলিল আকনের। এসব কথা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে খুলে বলার পরেও লা’শ নিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়া করে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু অসহায় জলিল আকন বলেন, সকাল হলে লা’শ নিয়ে গোসল করিয়ে দাফন করব। তাঁর এমন আবেদনে সারা না দিয়ে বরং ওই দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে কর্তৃপক্ষ লাশটি একটি ইজিবাইকে তুলে জলিল আকনের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে স্ত্রীর লা’শ নিয়ে ওঠেন ওই গ্রামে তাঁর ছোট চায়ের দোকানে। সারারাত ওখানেই কাটান। সকালে নিজেই গোসল করান। একপর্যায়ে দাফনে এগিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েক শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান সোহেল, মো. মাহবুব আলম রুবান, নেসার উদ্দিন, রাইয়ান, ফেরদৌস, পারভেজ, মনির হোসেন ও শাহীন। শুক্রবার দুপুরের আগেই তারা লা’শ দাফনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
মো. জলিল আকন বলেন, আমার স্ত্রী কহিনুর বেগম ডায়েরিয়ায় হয়েছিল। তাঁকে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টায় মা’রা যায়। আমার বাড়িতে ঘর নেই। গতমাসে আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অন্যের বাড়িতে থাকি। স্ত্রীর লা’শ সকালে আনতে চেয়েছিলাম কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলাম এবং হাসপাতালের কর্মীরা রাতেই একটি অটো ভাড়া করে লা’শ পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমার মৃ’ত স্ত্রীর লা’শ আমি নিজেই গোসলের ব্যবস্থা করি। পরে স্থানীয় কয়েকযুবক আমার স্ত্রীর লা’শ দাফনের ব্যবস্থা করে।
চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে রাতে লা’শ বাড়িতে নেওয়ায় স্বামীর আ’পত্তি ছিল। আমরা সব মৃ’ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দাফন-কাফনের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি নিতে বলি। আমি ভেবেছিলাম আর্থিক সমস্যার কারণে উনি রাতে লা’শ নিতে চাচ্ছেন না। তাই আমি নিজে অটো ভাড়া দিয়ে দিয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালে লা’শ থাকলেই ঝামেলা, মানুষ কোভিড-১৯ সন্দেহ করে। কোভিড-১৯ না হলেও পুলিশকে অবহিত করা, নমুনা সংগ্রহ করা ইত্যাদি নানা বিষয় ঝামেলা পোহাতে হয়। এ কারণেই হাসপাতাল থেকে লা’শ দ্রুত করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে রাতে লা’শ বাড়িতে পাঠানো উচিত হয়নি। শুনেছি ওই নারীর বাড়ি কয়েকদিন আগে আগুনে পুড়ে গেছে। আমি যখন বিষয়টি জেনেছি তখন লা’শ তাদের বাড়িতে পৌঁছে গেছে। ওই নারী ইউরিনাল ইনফেকশন জনিত রোগে ভোগছিলেন। উৎস: কালের কণ্ঠ।






