327491

টমেটোর এত গুণ!

স্বাস্থ্য ডেস্ক।। টমেটো অতি সহজলভ্য ও জনপ্রিয় একটি খাদ্য। এটি শীতের সবজি হলেও এখন সারাবছরই পাওয়া যায়। এর জনপ্রিয়তার কারণ ভালো স্বাদ, উচ্চ পুষ্টিমান এবং বহুবিধ উপায়ে ব্যবহারযোগ্যতা।

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে। আর এই টমেটোতে লাইকোপেন নামে বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, মূত্রাশয়, প্রোস্টেট ইত্যাদি দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

শুধু তাই নয়, এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ যা আমাদের নানা রোগ থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে। চলুন তাহলে জেনে নেই টমেটোর ২০ গুণের কথা।

১. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি টমেটো খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

২. রক্ত স্বল্পতা দূর করে: যারা রক্ত স্বল্পতা বা এনিমিয়ায় ভুগছেন তাদের জন্য টমেটো বেশ উপকারি একটি সবজি বা ফল। একটি আপেল, একটি টমেটো এবং ১৫ গ্রাম তিল একসাথে খাবেন। প্রতিদিন এক বা দুইবার খেতে পারেন। এতে রক্ত স্বল্পতার সমস্যা অনেকটাই দূর হতে পারে।

৩. চর্মরোগ নিরাময়ে টমেটো: চর্মরোগ নিরাময়ে টমেটোর রস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে থাকে। একটি টাটকা টমেটো নিয়ে তার রস করতে হবে। তারপর সে রস ত্বকের যে স্থানটি রোগাক্রান্ত সেখানে মাখিয়ে রাখুন। এভাবে দিনে দুই থেকে তিনবার মাখিয়ে রাখলে ত্বকের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

৪. সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে: সর্দি-কাশি প্রতিরোধেও টমেটো বেশ কার্যকর। সর্দি-কাশি হলে এক বা দুটি টমেটো নিয়ে স্লাইস করে অল্প চিনি বা অল্প লবণ দিয়ে পাত্রে গরম করে স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এর ফলে সর্দি-কাশিতে উপকার পাবেন।

৫. জ্বর সারায়: জ্বর নিরাময়ে সহায়ক টমেটো। গায়ের তাপমাত্রা নানান কারণে বাড়তে পারে। সামান্য জ্বর হলে টমেটো খেলেই আরাম পেতে পারেন। এক্ষেত্রে টমেটোর রসের সাথে তরমুজের রস মিশিয়ে খেতে পারেন। ঘন্টায় ঘন্টায় একটু একটু করে খেতে থাকুন। উপকার পাবেন জ্বর থেকে।

৬. হেপাটাইটিসের নিরাময়ে: টমেটোর এই গুণের কথা বলার মাঝে আমি আপনাদের একটি মজাদার খাবার রান্না শিখিয়ে দেব। এ খাবারের নাম ‘সবজি চাল স্যুপ’। এই ডিশের প্রধান উপাদান হচ্ছে, টমেটো, সেলারি, গাজর এবং চাল আর পরিমাণমতো লবণ। এই ডিশ হেপাটাইটিসের নিরাময়ে খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

৭. বয়সের ছাপ দুর করে: টাটকা টমেটো কেটে টুকরো টুকরো করার পর সেগুলো থেকে রস করে নেন। তারপর এই রসের সাথে খানিকটা চিনি মেশান। এই চিনিমিশ্রিত রস প্রতিদিন মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এতে মুখের ত্বক মসৃণ ও কোমল হবে। বয়স বাড়তে থাকলে মানুষের মুখে যে বয়সের ছাপ পড়ে, এই টমেটো দেওয়ার ফলে সেই ছাপ লুকিয়ে যেতেও টমেটা সাহায্য করবে।

৮. ক্ষত নিরাময়: আমাদের অনেকের মুখগহ্বরে মাঝে মাঝে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। টমেটোর রস এই ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় একবার করে টমেটোর রস খান। দেখবেন, দিন কয়েকের মধ্যে ক্ষত দূর হয়ে যাবে।

৯. মাড়ির রক্তপাত বন্ধ করে: আপনার মাড়ি থেকে যদি রক্ত পড়ে তবে আপনার ভিটামিন সি-এর অভাব আছে। যাদের মাড়ি দিয়ে রক্তপাত হয়, তাদের অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে, প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে দিন পনের পর দেখবেন রক্তপাত আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে গেছে।

১০. স্ট্রোক প্রতিরোধে: টমেটোর পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ায় যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। যখন মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, তখন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি বংশে এই ধরনের রোগের প্রবণতা থাকে, তবে নিয়মিত টমেটো খাওয়া উচিত।

১১. ত্বক সুস্থ রাখতে: নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক সুস্থ রাখতে আপনার চিন্তা করতে হবে না। আর ত্বক হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। টমেটোর বেটা ক্যারোটিন সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। আর এতে থাকা লাইকোপিন অতিবেগুনী রশ্মির ক্ষতি কমাতে ভূমিকা পালন করে। ফলে ত্বকে বলিরেখা পড়ার পরিমাণ কমে যায়।

১২: অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে: টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন এবং ভিটামিন-এ, যা অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই নিয়মিত টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং অ্যাজমা নিয়ন্তনে টমেটার গুরুত্ব অপরিসীম।

১৩: হাড় শক্ত করে: অনেকে বিশ্বাস নাও করতে পারেন, কিন্তু এটা সত্য যে টমেটোর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের জন্য অনেক উপকার এবং অস্টিওপরোসিস রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। আপনার যদি হাড় দুর্বল থাকে, তবে অবশ্যই টমেটো খান। আর এর মধ্যে থাকা লাইকোপিন যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও সাহায্য করে।

১৪. ক্যানসার রোধ করে: টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যেমন- লাইকোপিন। তাই এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি রেডিকেলস দূর করে এবং ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। টমেটোর কারণে ডিএনএ সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

১৫. প্রদাহ দূর করে: প্রদাহের একটি কারণ টিএনএফ-আলফা। টমেটোর কারণে শরীরে টিএনএফ-আলফার মাত্রা কমিয়ে রাখে। এতে শরীরে প্রদাহ কমে যায়। কাজেই টমেটোর জুস পান করে শরীরের জ্বালাপোড়া দূর করতে পারেন।

১৬. স্বাস্থ্যকর চোখ ও ত্বক: ত্বক এবং চোখের জন্য টমেটো বেশ উপকারি। টমেটোর মধ্যে থাকা ভিটামিন এ- চোখ, ত্বক এবং হাড়কে সুস্থ রাখে। আপনি যদি কুচি করে কাটা এক কাপ কাঁচা টমেটো প্রতিদিন খান তাহলে দেহে ভিটামিন এ-র অর্ধেক চাহিদা পূরণ করা সম্ভাব।

১৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে: টমেটোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ভিটামিন সি। যেটা শরীরের রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে রোগ প্রতিরোধে টমেটা অনেক উপকারি। তাই অসুস্থ দেহ থেকে আরোগ্য পেতে টমেটো খেতে পারেন, এটা রোগ নিরাময়ে সাহায্য করবে।

১৮. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে: টমেটা ব্লাড সুগার নিয়ন্তনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। টমেটার মধ্যে নানান ধরনের পুষ্টিগুণ বিদ্যমান থাকে। আর এই গুনাগুনের ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে টমেটা খাওয়া উচিত। তাহলে দেহের ব্লাড সুগার নিয়ন্তনে থাকবে।

১৯: ডিএনএ এর ক্ষতি রোধ করে: টমেটায় প্রচুর অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকে। তাই এই অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট দেহের যে কোন ধরনের ক্ষতিকর রোগকে নিরাময় করে। ফলে দেহের মধ্যে থাকা ডিএনএ কে রক্ষা করতে টমেটার অনেক ভূমিকা। আর ডিএনএ ভাল থাকলে দেহের কোন ক্যানসার আক্রান্ত করতে পারে না।

২০. রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে: রক্ত জমাট বাঁধা মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় রক্তের সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের কারণও হতে পারে। টমেটো এই ক্লোট বা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

তাই রোজ নিয়মিত টমেটো খেতে হবে। টুকটুকে লাল পাকা টমেটো অথবা কচকচে কাঁচা, কাঁচা বা রান্না যেভাবেই হউক টমেটো খান এবং সুস্থ থাকুন।

ad

পাঠকের মতামত