শিশুটির শ্বাসকষ্টের কথা শুনে চিকিৎসক তাদের ভেতরে যেতে বারণ করেন
নিউজ ডেস্ক।। নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে শিশুসন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন মা মরিয়ম; কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি নেননি। পরে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটিকে তিনি অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কোন হাসপাতালে গেছেন তা জানা যায়নি।
গতকাল রবিবার দুপুরে চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় বছরের ছেলেশিশুটি কোলে নিয়ে বাইরে বসে আছেন মা মরিয়ম। শিশুটির শরীর অনেকটা হলুদ হয়ে গিয়েছিল। তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। অসুস্থ শিশুটির বাবা-ময়ের চেহারা দেখেই বোঝা যায়, তারা সচ্ছল পরিবারের সদস্য; কিন্তু সন্তানকে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা শেষ ভরসা হিসেবে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন; কিন্তু যখনই শিশুটির শ্বাসকষ্টের কথা শোনেন, চিকিৎসক তাদের ভেতরে যেতে বারণ করেন। উপায় না দেখে জরুরি বিভাগের বাইরেই বসে পড়েন মরিয়ম। বাচ্চাটি পরম মমতায় কোলে নিয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসকরা যদি কাউকে ভর্তি না করেন তা হলে আমাদের করার কিছু থাকে না। আমরা জানতে পারি, শিশুটিকে ভর্তি না নেওয়ায় মা আবারও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির আশায় চমেক হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির আমাদের সময়কে বলেন, এ ধরনের খবর আমার জানা নেই। তবে আপনি যেহেতু বলেছেন, আমি কাল (সোমবার) অবশ্যই খোঁজ নেব। তিনি বলেন, আপনারা সবাই বোঝেন, এখন করোনা ব্যবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের সারাক্ষণ পিপিই পরে থাকতে হয়। আমরা সত্যিকার অর্থে একটি যুদ্ধের মধ্যে আছি।
আমাদের এক নারী চিকিৎসক ১০ দিন আগে বাচ্চা প্রসব করেছেন। তিনি এখন করোনা রোগে আক্রান্ত। তিনি মৃত্যুশয্যায়। এ ধরনের অবস্থার মধ্যেও আমরা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে কোনো রোগীকে ভর্তি না করার সুযোগ নেই। চমেক হাসপাতালে রোগী ভর্তি হতে না পারলে তারা কোথায় যাবে? উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




