326652

একদিনে ভারতে রেকর্ড প্রায় ১২ হাজার আ’ক্রান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভারতে প্রতিদিনই আগের দিনের সং’ক্রমণের রেকর্ড ভে’ঙে চলেছে মহামারি করোনাভাইরাস। রোববার সকালে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রা’ণঘা’তী করোনায় ১১ হাজার ৯২৯ জন আ’ক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ আ’ক্রা’ন্তের রেকর্ড।

এ নিয়ে পরপর দু’দিনই প্রায় ১২ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হলো। ভারতে এ নিয়ে মোট করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২০ হাজার ৯২২ জন। সর্বোচ্চ আ’ক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে দেশটি। বিশ্ব তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়ার পরই ভারত। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন ৩১১ জন। এ নিয়ে মোট মা’রা গেলেন ৯ হাজার ১৯৫ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সবচেয়ে বিপর্যস্ত পাঁচ রাজ্য মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশ। এর মধ্যে শুধু মহারাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩০। মৃ’তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা গুজরাটে প্রা’ণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৪৪৮ জন। দিল্লিতে মৃ’তের সংখ্যা ১ হাজার ২৭১।

করোনাভাইরাসের সং’ক্রম’ণেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। একমাত্র এ রাজ্যেই আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ রাজ্যে মোট আ’ক্রা’ন্ত ১ লাখ ৪ হাজার ৫৬৮ জন। এছাড়া তামিলনাড়ুতে আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৬৮৭ জন। দিল্লিতে আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৫৮ জন। গুজরাটে করোনা পজিটিভ ২৩ হাজার ৩৮ জন মানুষ। উত্তরপ্রদেশে আ’ক্রা’ন্ত ১৩ হাজার ১১৮ জন।

করোনা সং’ক্রম’ণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গেও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে এ রাজ্যে মোট আ’ক্রান্ত ১০ হাজার ৬৯৮ জন। রাজ্যে মৃ’ত্যু হয়েছে ৪৬৩ জনের।

এদিকে, সং’ক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শনিবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনসহ মন্ত্রিসভার প্রবীণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার সং’ক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে, দেশের মোট করোনা আ’ক্রান্তের দুই-তৃতীয়াংশই রয়েছে পাঁচ রাজ্যে। তাছাড়া এই রাজ্যগুলোর বড় শহরগুলোতেও দ্রুত হারে বাড়ছে সংক্র’মণ। সবচেয়ে বেশি আ’ক্রান্ত পাঁচ রাজ্যে করোনার লাগাম টানতে আরও জোরালো পরিকল্পনার নির্দেশ দিয়েছেন মোদি। আগামী ১৬ ও ১৭ জুন দুইদিন রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি।

এদিকে জরুরি ভিত্তিতে করোনা চিকিৎসার জন্য গাইডলাইনে সংশোধনী এনেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে রেমডেসিভির ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে। প্রয়োগ করা যাবে টসিলিজুমেব ওষুধ আর প্রয়োজনে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা যেতে পারে। জানা গেছে, রেমডেসিভির সং’ক্রমণ প্রতিষেধক আর টসিলিজুমেব রোগ প্রতিরোধকারী ওষুধ হিসেবে কার্যকরী। পাশাপাশি করোনা চিকিৎসার একদম শুরুতে ম্যালেরিয়া-প্রতিরোধী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্য’বহার করতে পারেন চিকিৎসকরা।

ad

পাঠকের মতামত