বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হকের বক্তব্যে গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
নিউজ ডেস্ক।। বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ড. রুবানা হক বলেন, জুন থেকে পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। সংগঠনের দাবি, তিনি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি। কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় কারখানাগুলোতে কাজের পরিমান কমে যাচ্ছে। এছাড়াও ভোক্তা কমে যাওয়ায় তিনি এই আশঙ্কা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ডয়চে ভেলে বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, তিনি এ কথা না বললেও পারতেন। হয়তো শ্রমিকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার জন্য এ কথা বলেছেন। সালমান বলেন, আমি মনে করি কি পরিমান শ্রমিক ছাঁটাই হবে সেটা বলার সময় এখনো আসেনি। ইউরোপ খুলে যাচ্ছে, অনেক অর্ডার ফেরত আসছে।
গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এক বিক্ষোভ সমাবেশে জানায়, ছাঁটাই হুমকির মাধ্যমে বিরাট আর্থিক সুবিধার জন্য সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি চলছে। অব্যাহত ছাঁটাই ও নির্যাতন করা হচ্ছে। নেতারা বলেন, ক্রমেই শ্রমিক বিক্ষোভ থেকে অনিবার্য বিস্ফোরণ সময়ের বিষয় মাত্র। এর জন্য দায়ি মালিকপক্ষ ও সরকারের মদদপুষ্ট আচরণ।
গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন জানায়, বক্তব্যটি সাত দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এক বিবৃতিতে জানায়, ঘোষণাটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ও সরকারের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকারের লঙ্ঘন। বাংলা নিউজ
গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের নেতারা মানববন্ধনে জানান, ঘোষণাটি শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থি। এতে শ্রমিক অসন্তোষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। জাতীয় শ্রমিক জোট জানায়, এটা অত্যন্ত অমানবিক এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ‘শ্রমদুনিয়ার পুতুলদের ইচ্ছেমতো ছাঁটাইকলে ঢোকানোর পাঁয়তারা’ শিরোনামে এবং উন্নয়ন কর্মী জিন্নাতুন নেছা ‘করোনা পরবর্তী বিশ্ব ও নয়া সাম্রাজ্যবাদ’ শিরোনামে পৃথক দুটি পত্রিকায় মতামত দেন। প্রথম আলো।
প্রিন্ট, অনলাইন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্যটির চর্চা চলছে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ড. রুবানা হক জানিয়েছেন, আপাতত মিডিয়াতে কোন কথা বলতে চাই না। সম্পাদনা : রায়হান রাজীব






