লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ইউপি সদস্য!
নিউজ ডেস্ক।। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সহায়তা দেওয়ার প্র’লোভন দেখিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের বি’রুদ্ধে। দিনের পর দিন সহায়তা বা টাকা কোনোটাই না পেয়ে বি’চারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অ’ভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম রইছ উদ্দিন। তিনি উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের একজন সদস্য।
অ’ভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ওই ইউপি সদস্যের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক একে এম গালিভ খান জানান, অ’ভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনকে বরখাস্ত করার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় তার বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এলাকাবাসীর অ’ভিযোগ, শত শত অসহায়-দরিদ্র মানুষকে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেওয়ার প্র’লোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন। একেকজনের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এর বিনিময়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা তো দেয়নি, উল্টো টাকা ফেরত চাইলে নানা হু’মকি-ধা’মকি ও মারধর করা হয় তাদের। রইছ উদ্দিনের ফাঁ’দে পড়ে ঋ’ণগ্রস্ত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই।
ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ‘মেম্বরে আমার থেকে ২২ হাজার টাকা নিছে। ঘর বাইন্ধে দিবে, প্রতিবন্ধী কার্ড বানাইয়া দিব বলে।’
এক বৃদ্ধা বলেন, ‘রইছ উদ্দিনের হাতে ধরছি, পাই ধরছি, সে আমারে টাকাটা দিল না।’
আরেকজন বলেন, ‘আমি যদি টাকা চেয়ে বিচার চাই, তাইলে নাকি আমার নামে কেস হয়ে যাবে, হু’মকি দেহায়।’
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বি’চার ও টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনও মহোদয়কে বলেছি আ’ইনগ’ত ব্যবস্থা যা যা নেওয়ার দরকার নিতে।’
স্থানীয় একজন বলেন, ‘৭০ লাখের মতো টাকা সে মানুষের থেকে নিয়েছে।’ আরেকজন বলেন, ‘শত শত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিছে। এর আমরা বি’চার চাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘ইউপি সদস্যের বি’রু’দ্ধে অ’ভিযো’গের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অ’ভিযোগে’র সত্যতা পেয়েছে। ওই ইউপি সদস্যের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে, ত’দন্ত কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
এ ব্যাপার ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ইউপি সদস্য রইছ উদ্দিনের বি’রুদ্ধে নানা অ’ভিযোগের কথা শুনেছি। অ’ভিযোগ পেলে গ্রে’প্তারসহ তার বি’রুদ্ধে কঠো’র আ’ইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উৎস: আমাদের সময়।




