322213

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সংকটে লাখো বাংলাদেশি

প্রবাস ডেস্ক।। মধ্যপ্রাচ্যের আলো ঝলমলে দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত করোনার ভ’য়াল থাবায় আজ অনেকটা স্তব্ধ ও গতিহীন। প্রায় ২০ হাজারের আ’ক্রান্তের বিপরীতে দেশটিতে প্রা’ণ কে’ড়ে নিয়েছে ২০৩ জনের। লকডাউনের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য এক প্রকার বন্ধ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বনিম্ন।

এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র আমিরাতে করোনায় গৃহবন্দি থাকায় ব্যাপক সং’কটে পড়েছেন দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা। করোনা থাবা বসিয়েছে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের ওপরও। এ ছাড়া কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় অংশই খাবারের কষ্টে ভুগছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের পর আরব আমিরাতেই সব থেকে বেশি বাংলাদেশি করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত হাজারেরও বেশি করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। মৃ’ত্যু হয়েছে ৪০ জনের মতো। আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত আমিরাতে ১৯ হাজার ৯৬১ জন করোনায় আ’ক্রান্ত হয়েছেন। মা’রা গেছেন ২০৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১২ জন।

তথ্যমতে, বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি আমিরাতে বসবাস করেন। এর মধ্যে ৭ লাখের মতো শ্রমিক। আমিরাতের অন্যতম প্রধান শহর দুবাইয়ের যেসব এলাকায় আবাসিক ভবনে সম্পূর্ণরূপে লকডাউন করা হয়েছে সেসব এলাকায় আমিরাত সরকার সরকারিভাবে খাদ্য সরবরাহ করে যাচ্ছে। তবে অন্য এলাকার অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি খাদ্য সং’কটে ভুগছেন। বিশেষ করে যারা অবৈধ, ফ্রি ভিসায় ও দৈনন্দিন ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা পড়েছেন সব থেকে বিপাকে। দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক লাখের মতো বাংলাদেশি বর্তমানে চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্যসংকটে কর্মহীন মানুষের হাহাকার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আরব আমিরাত দূতাবাসের পক্ষ থেকে অসহায়দের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে অ’ভিযোগ রয়েছে। অনেকেই দূতাবাসে সাহায্য চেয়ে না পাওয়ার অ’ভিযোগ করেছেন। আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও দূতাবাস থেকে সাড়া না দেওয়ারও অ’ভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা সরকার থেকে যে বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশিকে সহযোগিতা করতে পেরেছি। আর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশিকে সাহায্যের ব্যবস্থা করেছি। তবে এ কথা ঠিক চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা অনেক কম। আমরা চেষ্টা করছি সাধ্যমতো সাহায্য করার। আমরা সরকারের কাছে আরও চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে নিঃস্ব এবং যাদের কোনো স্পন্সর নেই, তাদের খাদ্যদ্রব্য দিয়ে আমাদের বাঁ’চিয়ে রাখতে হবে। আর যারা সামর্থ্যবান তাদের অনুরোধ করব, তারা যেন এগিয়ে আসেন এই সং’কট মোকাবিলায়।

প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোভিট-১৯ প্রাদুর্ভাবে কনস্যুলেটে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে সহায়তা করেছেন খাদ্যসং’কটে পড়া প্রবাসীদের। তা ছাড়া বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবি, বাংলাদেশ সমিতি দুবাই, বাংলাদেশ সমিতি শারজা, বাংলাদেশ সমিতি ফুজাইরা, বাংলাদেশ সমিতি উম্মুল কোয়েন, বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আজমান, ইয়ুথ-বাংলা কালচারাল ফোরাম, ইয়াকুব সুনিক ফাউন্ডেশন, বাবকো গ্রুপ সাংগঠনিক ও কোম্পানির তরফ থেকে খাদ্যসং’কটে পড়া প্রবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিকভাবেও অনেক সংগঠন এগিয়ে এসেছেন খাদ্যসং’কটে পড়া কর্মহীন প্রবাসীদের পাশে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইউএই কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আল আইন কমিটি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ফোরাম দুবাই, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রাস-আল-খাইমা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ দুবাই, বঙ্গবন্ধু পরিষদ আল আইন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ইউএই কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে করোনার কারণে লকডাউন থাকায় সব বড় বড় প্রকল্প এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ বন্ধ। ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে তারা। তেলের দাম স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যাওয়ায় আর্থিক মন্দার ভেতর পড়েছে দেশটি। আ’শঙ্কা করা হচ্ছে, করোনাপরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হতে পারে। এ ব্যাপারে আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। ফলে কোম্পানিগুলো কর্মী সংকোচন করছে। যাদের কাজ নেই তাদের অগ্রিম ছুটি দিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলছে। এ ছাড়া অনেক কোম্পানি বেতন ২০-৩০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। যাদের নিতান্ত প্রয়োজন নেই তাদের চাকরিচ্যুত করছে। তবে আশার খবর হলোÑ মার্চের পর যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর যারা ১৫ মার্চের পর এ দেশে ঢুকেছেন, তারা এবং ফ্রি ভিসায় আছেন তারা চাইলে যে কোনো কোম্পানিতে চাকরি নিতে পারবেন। এমনকি ভিজিট ভিসা হলেও। ফলে এটি একটি সুখবর। যারা বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছেন, আমিরাতে আসতে পারছেন না। তারা একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে বিমান চলাচল শুরু হলে আমিরাতে ফিরতে পারবেন। ফরম পূরণ ছাড়া কেউ আমিরাতে ঢুকতে পারবেন না। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত