ইউরোপ ঘিরে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি
ডেস্ক রিপোর্ট :ইউরোপের বাজার নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। করোনাউত্তর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির মূল প্রতিপাদ্য হতে পারে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। গত চার মাসে ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়।
সেসব বাতিল ও স্থগিত ক্রয়াদেশ আবার ফিরে আসছে। নতুন ক্রয়াদেশও আসছে বেশ। কারণ ইউরোপের লকডাউন ক্রমেই তুলে নেওয়া হচ্ছে। এদিকে খুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবিলা করে অর্থনীতির এই চালিকা শক্তি সচল রাখা গেলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অনুকূলে আনা সম্ভব হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, করোনাউত্তর পরিস্থিতিতে ইউরোপের বাজার ঘিরেই বড় সম্ভাবনা রয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য নার্স বা সেবিকা নিয়োগ করা হতে পারে। এ ছাড়া ইতালিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে কৃষি শ্রমের বড় বাজারও তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি সক্রিয় করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ থেকে আমদানির অর্ডার বাতিল না করার জন্য ইউরোপের দেশগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশই এখন সংকটে আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইউরোপেই আমাদের তৈরি পোশাকের বড় বাজার। সেই বাজার ঘিরেই আমাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে হবে। সেটি সামনে রেখেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যত ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব তা করছে।
নতুন সম্ভাবনাও ইউরোপ ঘিরেই :সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রদূতদের কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে তৈরি পোশাকের অর্ডার রক্ষা, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং নতুন সুযোগ অন্বেষণে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রদূতরা জানিয়েছেন, কভিড-১৯ সংকট পরিস্থিতিতে ইউরোপে বিপুলসংখ্যক নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত নার্স ইউরোপ নিতে পারে। শুধু ইউরোপ নয়, সারাবিশ্বই কারোনা শেষে তাদের স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজাতে পারে। সেখানে বিপুল পরিমাণ স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন হতে পারে। এটা বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশে কৃষি উৎপাদনেও শ্রমিক সং’কট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট আরও বাড়তে পারে। এ আ’শঙ্কা থেকে এরই মধ্যে ইতালি সরকার সে দেশে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরতদের বৈধতা দিয়ে কৃষি উৎপাদন কাজে নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বাংলাদেশি বৈধ অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন ইতালিতে।
বর্তমানে ইউরোপের বাজারে পিপিই ও মাস্কের বিপুল চাহিদা। এ চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ ধরনের পণ্য ঘিরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সামনেও নতুন সম্ভাবনা রয়েছে। সং’কট কাটলে আবারও ইউরোপের বাজার থেকে বেশি ক্রয়াদেশ আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সং’কটের ভেতরেই বাংলাদেশের কর্মীদের যেভাবে বের করে দিচ্ছে, ইউরোপে সে ধরনের পরিস্থিতি নেই। ইউরোপে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যারা অবস্থান করছেন, তাদেরও দেখভাল করছে রাষ্ট্রগুলো। সং’কট কাটলেও ইউরোপ থেকে বাংলাদেশিদের গণহােের ফেরত পাঠানোর মতো কোনো চাপ সৃষ্টির আ’শঙ্কা নেই।
ইউরোপে সং’কটের ভার এশিয়ার কাঁধেও : সূত্র জানায়, ইউরোপে করোনার কারণে যে সং’কট সৃষ্টি হয়েছে তার দায় এশিয়ার উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলোর ওপর প্রত্যক্ষভাবেই পড়ছে। কারণ ইউরোপেই এশিয়ার উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্যের বড় বাজার। আবার একই সঙ্গে ইউরোপই অনুন্নত দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা বা অনুদান দেয়। গত তিন মাসে ইউরোপের বেশ কিছু কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে, কিছু দেউলিয়া হওয়ার পথে।
যেমন ইউরোপের একটি কোম্পানি বাংলাদেশে ৩৬টি তৈরি পোশাক উৎপানদকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দিয়েছিল। এখন সেই কোম্পানি দেউলিয়া ঘেষিত হয়েছে। ফলে ওই ক্রয়াদেশ পাওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও সং’কটের প্রত্যক্ষ অংশীদার হয়ে গেছে।সমকাল,যুগান্তর






