321934

‘জীবনেও ভাবছি না, নিজ পুলাপাইনের হাতে মা’ইর খাইয়্যা হাসপাতালে আইমু’

নিউজ ডেস্ক।। সন্তানের সুখের জন্য মা-বাবা জীবন দিয়ে দিতে পারেন। নিশ্চিন্তে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে পারেন সন্তানের জন্য। কিন্তু প্রতিদানে সন্তান কী করতে পারেন? মা-বাবার এই ভালোবাসার মূল্য সব সন্তান কি দিতে পারেন? কঠিন সত্য হলো, পারেন না। প্রতিদানে কেউ কেউ মা-বাবাকে চরম অবহেলা করেন।

কখনো কখনো শারীরিক নি’র্যাতন করতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরেও এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধ মা-বাবার শেষ সম্বল নিজের হাতে নিয়ে পি’টিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এক মেয়ে ও সন্তানরা।

ঘটনা রোববার রাত ৮টার। উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ (৮৫) ও তার স্ত্রী দিলবাহারকে (৭৫) আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বালিজুড়ি ইউনিয়নের লোহাচুড়া শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দার জানান, বৃদ্ধ আব্দুল আহাদের দুই ছেলে তাদের রেখে অন্যত্র কাজ করে জীবন যাপন করায় লোহাচুড়া গ্রামের তিন শতক জায়গার উপর বসবাস করে আসছিলেন। যাদুকাটা নদীতে বালিপাথরের নৌকায় লোড আনলোডের কাজ করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়েই চলছিল কোন রকমে। এ অবস্থায় বৃদ্ধের তিন শতক বাড়ির ওপর নজর পড়ে মেয়ে শফিকুন নাহার বেগমের। দুই বছর আগে তিনি তার বাবাকে নানাভাবে ফুসলিয়ে তিন শতক জমি বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা নেয়। এবং স্বামীর বাড়িতে আজীবন লালন পালনের শর্তে মা-বাবাকে সাথে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ কোনো রুজি রোজগার করতে না পারায় প্রায়ই শফিকুন নাহার তাদের সাথে ঝ’গড়া করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে শফিকুন নাহার ও তার ছেলে-মেয়ে মাকছুরা, মুছাব্বির মিলে অমানবিকভাবে আব্দুল আহাদ ও তার স্ত্রীকে মা’র’ধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এমনকি তার বসতঘর ভা’ঙচুর করে বিছানাপত্রও বাইরে ফেলে রাখে।

আহত বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ ও তার স্ত্রী দিলবাহার বলেন, নিজ পুলাপাইনের হাতে মা’ইর খাইয়্যা হাসপাতালে আইমু জীবনেও ভাবছি না। আমি অখন ভিটেমাটি ছাড়া খাওয়ারও কোনো যোগাড় নাই। বাকি জীবনটুকু বাঁ’চতে তিনি সরকারের সহায়তা চান।

এ ব্যাপারে মেয়ে শফিকুন নাহার বলেন, আমরা দুই বোনে ঝগড়াঝাটি করলে আমার মা-বাবা আমার ছোট বোনের পক্ষে থাকে। মা-বাবাকে আমি মা’রধর করিনি। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা করেছে।

বালিজুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ একরামুল হক বলেন, বৃদ্ধ বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকাসহ মেয়ে শফিকুন নাহার তার মা-বাবাকে আজীবন লালন পালনের জন্য তার বাড়িতে এনেছিলেন। রোববার রাতে শফিকুন নাহার ও তার ছেলেমেয়েরা যেভাবে আব্দুল হক ও তার স্ত্রীকে মারধর করেছে সেটা বলার ভাষা আমার নেই।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডাঃ ইকবাল হোসেন বলেন, রোববার রাতে লোহাচুরা শান্তিপুর গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল আহাদ এবং তার স্ত্রী গুলবাহারকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ দেয়া হচ্ছে। উৎস: নয়াদিগন্ত।

ad

পাঠকের মতামত