321839

প’র্নোগ্রা’ফি’তে জড়িত থাকার অ’ভিযোগে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমি ব’হিষ্কার

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘প’র্নোগ্রা’ফি’তে জড়িত থাকার অ’ভিযো’গে মহিলা আওয়ামী লীগ ব’হিষ্কার করলো জৈন্তাপুরের সুমি বেগমকে। কু’রুচিপূর্ণ কর্মকা-ের জন্য তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সুমি জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রোববার জৈন্তাপুর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীরা বৈঠক করে তাকে ব’হিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সন্ধ্যায় জৈন্তাপুর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়মতি রানী ও সাধারণ সম্পাদক তসলিমা বেগম রিমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে সুমিকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়মতি রানী জানিয়েছেন- সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর সংগঠনের জরুরি সভায় সুমি বেগমকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের বিষয়টি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান- জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে তাকে গত সম্মেলনে অ’ন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর তাকে এই পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।

এখন থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুমির কোনো সম্পৃক্ততা থাকলো না বলে জানান তিনি। জৈন্তাপুরের মোকাম টিলার ঘটনা। ওই টিলায় সম্প্রতি বসতি গেড়েছেন সুমি বেগম। স্বামী কয়েস সহ ওই বাড়িতে বাস তার। সম্পর্কে বোনের বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া মেয়েকে সে ২রা মে ইফতারের কথা বলে নিয়ে যায় নিজের বাড়ি। সেখানে ইফতারের পর চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ওই তরুণীকে অচেতন করে সুমি।

এরপর সুমির স্বামী কয়েস ওই তরুণীকে ধ’র্ষণ করে। আর দৃশ্যটি ধারণ করে স্ত্রী সুমি বেগম। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। মা’মলা দা’য়ের হলে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় সুমি ও তার স্বামী। শনিবার সিলেট শহর থেকে প’লাতক অবস্থায় র‌্যাব তাদের আ’টক করে। তাদের আ’টকের পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। জৈন্তাপুরে শুরু হয় ধিক্কার। কারন- ধর্মীয় অনুশাসনের এলাকা জৈন্তাপুরে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষো’ভও। তবে পু’লিশ ছিলো সক্রিয়। ঘটনার প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত রেখে মা’মলা গ্রহন, আ’সামি গ্রে’প্তার সহ সবই করেছে। সুমি ও তার স্বা’মীকে গ্রে’প্তারের পর পু’লিশ ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেক কিছুই বলে দিয়েছে। তবে- পু’লিশ এখনো ঘটনাকালীন সময়ের ভিডিও পায়নি। আদৌও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে কী না- এ নিয়ে সন্দিহান পু’লিশ।

তবে- স্থিরচিত্র পেয়েছে। ধ’র্ষণের অ’র্ধ উ’লঙ্গ একটি চিত্র পু’লিশ ধ’র্ষক কয়েসের মোবাইল ফোনে পেয়েছে। আর ওই ছবিটি সুমি বেগম নিজেই মোবাইল ফোনে তুলেছে বলে পু’লিশকে জানিয়েছে। তবে- ঘটনার শিকার হওয়া ওই তরুণী তার মা’মলার এজাহারে দাবি করেছে- সুমি ঘটনার সময় ভিডিও ধারণ করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পু’লিশ কর্মকর্তা জানান- ভিডিও ধারণ করা হয়েছিলো হয়তো, সেটি এখন ডিলিট করা হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটি বের করা হতে পারে। সেই চেষ্টা চালাচ্ছে পু’লিশ।

তবে- যে ছবি রয়েছে সেটিও মা’মলার সত্যতা প্রমাণে সক্ষম। এ কারনে মোবাইল ও ছবি পু’লিশ জব্দ করে রেখেছে। এদিকে- পু’লিশের প্রাথমিক তদন্তে সুমি তার স্বামীর আরো অনেক ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। তারা যে তরুণীকে টার্গেট করেছিলো সেই তরুণীকে অন্ধকার পথে নিয়ে যেতেই এ প্রচেষ্টা চালানো হয়। এ কারনে তাকে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। সেখানে তাকে অচেতন অবস্থায় ধ’র্ষন করা হয়। ধ’র্ষণের চিত্র ধারণ করা হয়। এরপর চেতনা ফিরে এলে সুমি তাকে এসব দৃশ্য দেখায়। এবং জানায়- এ ব্যাপারে মুখ না খুলতে। এবং তাদের কথা মতো চলারও নির্দেশ দেয়। নতুবা তারা সংগ্রহ করা ধ’র্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলে জানায়।

কিন্তু নি’র্যাতি’তা তরুণী সাহস করে গিয়ে তার মাকে এসব কথা জানায়। জৈন্তাপুর থানার ওসি তদন্ত মো. ওমর ফারুক গতকাল জানিয়েছেন- সুমি ও তার স্বামীর মুল উদ্দেশ্য ছিলো ওই তরুণীকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে অ’ন্ধকা’র পথে নিয়ে যাওয়া। এ কারণে তারা ধ’র্ষণ ও চিত্র ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ- নিজের পাপের দল ভারী করতে সুমি এসব কাজ করছে বলে পু’লিশের কাছে তথ্য এসেছে। এসব বিষয় এখন যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে- থানা সদরে চুনাহাটি গ্রামে পিতার বাড়িতে বসবাস করতেন সুমি বেগম। স্বামী কয়েস আহমদও থাকতেন স্ত্রীর সঙ্গে। সুমির পিতা নানা অ’পরা’ধের সঙ্গে জড়িত। তীর, জুয়া ও মা’দকের সঙ্গে জ’ড়িত আগে থেকেই। এ কারণে ব’খাটে কয়েসের সঙ্গেই বিয়ে দেন নিজের মেয়ে সুমিকে।

বিয়ের পর সুমি পিতার বাড়িতে ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে তারা মোকামটিলা এলাকায় নতুন বাসা বানিয়েছে। সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে তারা। কয়েস জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্পটের তীর ও জুয়ার নিয়ন্ত্রক ছিলো। এর বাইরে গা’জা, হে’রোইন, ম’দের ব্যবসা করতো সে। আর এতে সম্পৃক্ত ছিলো আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমীও। ‘অ’পরাধী পরিবার’ হিসেবে তাদের অনেকেই চিনতেন। জৈন্তাপুর থানা পু’লিশ জানায়- এর আগে সুমি ও তার স্বামীর বি’রুদ্ধে মা’দক আ’ইনে একাধিক মা’মলা হয়েছে। পু’লিশ তাদের বি’রুদ্ধে আই’নগত ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব থাকার কারনে তারা সব সময়ই ছিলেন ধরা ছোয়ার বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধ’ণ ও প’র্নোগ্রা’ফির ঘটনায় তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। উৎস: মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত