এই ব্যক্তি যেভাবে সিম হ্যাক হয়ে ১০ লাখ ডলার খোয়ালেন
ডেস্ক রিপোর্ট।। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দা রবার্ট রস ঘরে বসে অফিসের কাজ করছিলেন। এমন সময় তিনি দেখেন তার আইফোনটি কাজ করছে না। কোনো ধরনের কাভারেজ পাচ্ছেন না ফোনে। কয়েক ঘণ্টা পর দেখেন তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ লাখ ডলার হাওয়া।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে সিম হ্যাকের এ ঘটনা উঠে এসেছে। হ্যাকাররা রসের সিম হ্যাক করে ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়।
এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে রস বলেন, আমি তখন ডেস্কে বসে অফিসের কাজ সারছিলাম। হঠাৎ আমার ফোনে একটি নোটিফিকশন পাই। আমার একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের নোটিফিকেশন ছিল সেটি। আমার কাছে ব্যাপারটি অদ্ভূত লাগল। কারণ এই ধরনের কিছুই আমি করিনি। এর কিছুক্ষণ পর দেখি আমার ফোনে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক কাভারেজ পাচ্ছি না। এরপরই টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে এবং সারাজীবনের সঞ্চয় হারাই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, অনলাইনে অপরাধ জগতে সিম হ্যাক করার ঘটনা এতই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, অনেক গ্রাহক আছেন যারা নিজেদের তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে তেমন আর ভাবেন না।
তথ্য ফাঁস কেলেঙ্কারির তালিকায় বড় চেইন হোটেল, ব্যাঙ্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ আলোচনায় থাকলেও সিম হ্যাকের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায় না। অথচ অনলাইনে এটিও বড় ধ্বংসাত্মক অপরাধ।
রসের সিম হ্যাকের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও সে অপরাধ স্বীকার করেনি। তদন্তে দেখা গেছে, রসের সিম হ্যাক করে হ্যাকার ফোন কোম্পানিকে বোঝাতে সফল হয়েছে যে, সে রস। মানে রস পরিচয় দিয়ে হ্যাকার ওই সিম নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর সিমের মাধ্যমে রসের তথ্য চুরি করে ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকার।
যুক্তরাষ্ট্রের সব ফোন কোম্পানির সিম হ্যাক করে এই ধরনের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারলে তখন যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ফোনে ম্যাসেজের মাধ্যমে নতুন পাসওয়ার্ড পেয়ে যান। সে পাসওয়ার্ড দিয়ে সহজে আপনি আপনার অ্যাকাউন্টে পুনরায় প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ম্যাসেজে অনেক সময় নতুন পাসওয়ার্ডগুলো থেকে যায় মানে সেই ম্যাসেজ ডিলিট করতে ভুলে যান। এখন আপনার ফোন হ্যাকারদের কবলে পড়লে তারা সেই ম্যাসজে থেকে পাসওয়ার্ডগুলো পেয়ে যায় এবং এতেই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। অতএব নিজের তথ্য নিরাপদে রাখতে হবে নিজেকেই। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড ফোনে রাখা যাবে না বা সেভ করা যাবে না।






