318366

করোনা রুখছে চমকে দেওয়া মাস্ক বানিয়েছে গাজা! (দেখুন ছবিতে)

নিউজ ডেস্ক।। প্রায় অবরুদ্ধ এই ফিলিস্তিনি জাতিসত্তার সং’ঘর্ষ’ময় এলাকায় করোনার ছোবল তেমন নেই। কারণ একটাই একঘরে হয়ে থাকা। ১৪ বছর ধরে ইসরায়েল অ’বরু’দ্ধ করে রেখেছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের ঘাঁটি গাজা।

ভূমধ্যসাগর তীরে এই শহর থেকেই ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালায় হামাস। আর ইসরায়েলি মিসাইল ও সেনার হামলায় মৃ’তুপু’রী হয় গাজা। এমনই বিতর্কিত গাজা ভূখণ্ডের করোনা মোকাবেলায় চমকে গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

কেউ পাতা তো কেউ বোতল অথবা টিন ও কাপড়ের টুকরো দিয়ে মাস্ক বানিয়েছেন গাজার নাগরিকরা। সেই ছবি ছড়িয়েছে দুনিয়ায়। এমনই সব চমকে দেওয়া মাস্ক নিয়ে করোনা রুখতে লড়াইয়ে নেমেছে বিচ্ছিন্ন গাজা।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসেবে, গাজার প্রতিবেশী ইসরায়েলে করোনাভাইরাসে মৃ’ত একশ ৭০ জনের বেশি। কিন্তু ফিলিস্তিনি এলাকা গাজায় নেই মৃ’ত্যু। তবে বাকি প্যালেস্টাইন অঞ্চলে দু জনের মৃ’ত্যু সংবাদ এসেছে। ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে কোনো অবস্থাতেই মূল প্যালেস্টাইনের শাসকপক্ষ গাজায় কিছুই পাঠাতে পারে না।

স্বাভাবিকভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতেও তাদের পক্ষে কিছুই করার নেই। এদিকে চীন থেকে এই ভাইরাস বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তেই ইসরায়েল এবং মিশর তাদের সীমান্তের চেকপোস্ট যতটুকু খোলা ছিল তাও বন্ধ করে। এতে আরো বিপাকে পড়েন গাজার বাসিন্দারা। অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দূর্বল পরিকাঠামো নিয়েই শুরু হয় তাদের করোনা বিরোধী লড়াই। দরকারি মাস্ক-তাও অপ্রতুল।

ফলে ইসরায়েলি বিরোধী লড়াইয়ের মুখোস পরে নিতে থাকেন সবাই। সেইসঙ্গে বোতল, টিনের মতো বিভিন্ন ফেলে দেওয়া সামগ্রী দিয়েই তারা বানিয়ে নেন মাস্ক। হু জানাচ্ছে, ২০ লাখ জনসংখ্যার গাজা শহরে রয়েছে ৩০ শয্যার হাসপাতাল। চিকিৎসক খুবই কম। স্য়ানিটাইজার তেমন নেই। যদিও আলজাজিরা এবং এএফপি সংবাদ সংস্থার খবর, সম্প্রতি ইসরায়েলের তরফে ‘শত্রু’ গাজা প্রশাসনকে উন্নত থার্মাল সাইকলার ডিভাইস দেওয়া হয়। এর মূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা দান করেছিল থার্মাল সাইকলার। পরিস্থিতি বুঝে গাজা প্রশাসন শহরের নাগরিকদের জন্য কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায়। আর সীমিত ক্ষমতায় কী করে অভিনব মাস্ক তৈরি হবে তার চেষ্টা শুরু করেন গাজাবাসী।

বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার সুবাদে করোনার সংক্রমণ থমকে গেছে গাজায়। তবে এখানকার বাসিন্দারা বলছেন, একেই সারা বছর ইসরায়েল অবরুদ্ধ করে রাখে গাজা। নাম মাত্র সীমান্ত পেরিয়ে আসা-যাওয়া হয়। কিন্তু এই অবস্থা বেশি দিন চলতে পারে না। এই ভাইরাস হামলা দেখিয়ে দিয়েছে গাজার বাসিন্দারা কেমন করে টানা অবরোধে থেকে কষ্ট স্বীকার করেন। সূত্র: আলজাজিরা, এএফপি, কলকাতানিউজ টোয়েন্টিফোর।

ad

পাঠকের মতামত