317595

টিসিবির ৯৮০ লিটার তেল মিলল যুবলীগ কর্মীর গুদাম থেকে, ৩৬৫০ কেজি চিনি

নিউজ ডেস্ক।। হবিগঞ্জে ব্যবসায়ী নেতা ও যুবলীগ কর্মী নোমান হোসেনের গুদাম থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১৯৬টি বোতল সোয়াবিন তেল ও ৭৩ বস্তা চিনি জব্দ করেছে প্রশাসন। নবীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যেগে উল্লেখিত মালামাল জব্দ করা হয়। টিসিবির বিক্রি মূল্য হিসাবে এগুলোর দাম ২ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিত কুমার পাল নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জে ও জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত জগন্নাথপুর উপজেলার আলীগঞ্জ বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন।

এ ঘটনার পর ইনাতগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নোমান পালিয়ে গেছেন। এ সময় তার ভাইসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-নোমানের ছোট ভাই আমান হোসেন (৩০), কর্মচারী লিংকন রায় (৩০), ছমেদ মিয়ার পুত্র সিরাজ মিয়া (৪০), আব্দুল কালাম, আবুল কালাম (৪২)।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারে নোমান হোসেনের দোকান ও গোদামে অভিযান চালায়। সেখানে টিসিবির মাল না পেয়ে পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আলীগঞ্জ বাজারে তার গুদামে অভিযান চালান জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত। এ সময় গুদামে লুকিয়ে রাখা টিসিবির ৫ লিটারের ১৯৬টি বোতল সোয়াবিন তেল ও ৫০ কেজি ওজনের ৭৩ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। টিসিবি ডিলাররা খোলাবাজারে ৮০ টাকা লিটার দরে তেল ও প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি করে থাকেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত মালামাল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী নোমানের ভাই আমান হোসেন জানিয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের টিসিবির ডিলার গালিব ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল হাদীর কাছ থেকে এসব পণ্য ক্রয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তবে ডিলার আব্দুল হাদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ২০বছর ধরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। কোনো সময়ই এ ধরনের কাজ করেননি তিনি।

ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, নোমান ইনাতগঞ্জ এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী। তার কমপক্ষে ৩০টি ছোট বড় গোডাউন ইনাতগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলায় রয়েছে। তিনি ডিলার না হয়েও টিসিবির মালামাল গুদামজাত করেছেন খবর পেয়ে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ইনাতগঞ্জে টিসিবির কোনো ডিলার নেই। পাশ্ববর্তী কামারগাও ও বান্দেরবাজারের জামান ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক টিসিবির ডিলার রয়েছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে টিসিবির মাল ক্রয় করছেন না বলে শুনেছি। তিনি অবৈধভাবে নোমানের কাছে মাল বিক্রি করছেন কি না খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

এদিকে জামান ট্রেডার্সের মালিক জামাল জানান, বৃহস্পতিবারেও তিনি টিসিবি থেকে ১ গাজার ৫০০ লিটার তেল, ১ টন চিনি ও ১০০ কেজি ডাল উত্তোলন করেছেন। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত