চিকিৎসকের আক্ষেপ : ‘আমি কি আমার মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করব?’
ডেস্ক রিপোর্ট।। চীনে উৎপত্তি হলেও করোনার প্রথম মৃ’ত্যু’পুরী ইতালি। দেশটিতে এরই মধ্যে প্রায় ২২ হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে। আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। দেশটিতে কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে কয়েক শ ডাক্তার-নার্স ও মেডিক্যাল কর্মীর। অবস্থা এতটাই ভ’য়াব’হ ছিল যে, হাসপাতালে যাওয়ার আগে ডাক্তারদের মনে হত স্বেচ্ছায় ফাঁ’সি’র দড়ি গলায় পরতে যাচ্ছেন।
রোমের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.জিওভান্নি পাসেরির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বার্তা সংস্থা এপি’র একজন ফটো সাংবাদিক। সেখানেই করোনার দিনগুলোর ভ’য়াব’হতা এভাবেই উঠে এসেছে।
ডা. জিওভান্নি বলেছেন, এটি ছিল ৭ ই মার্চ, দুপুর সবেমাত্র ম্যাগজিওর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে এসেছি, সেখানে আমি একজন ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসাবে কাজ করেছি। হঠাৎ জরুরি ভিত্তিতে আমাকে কাজে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। হাসপাতালটিতে তার ওয়ার্ডটিতেই প্রথম কভিড -১৯ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল।
গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ফিরে যাওয়ার পথে ৫৬ বছর বয়সী ডাক্তার জিওভান্নির বার বার মনে হচ্ছিল- ‘আমি কি এখন নিজের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছি?’
ইতালির ২২ হাজারের বেশি মৃ’ত্যু’র অনেকগুলোই ছিল ম্যাগজিওরে জিওভান্নির হাসপাতালে। এমনকি সেখানে তার সহকর্মীসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসকেরও মৃ’ত্যু হয়েছে করোনায়। করোনার লড়াইয়ে ইতালির উত্তর প্রদেশের এই হাসপাতালটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
এক মাসেরও বেশি আগের সেই বিকেল থেকে, জিওভান্নি প্রতিদিন টানা ডিউটি করেছেন। ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রতিদিন ডিউটি করেছেন। তার স্ত্রী এবং ১০ বছরের ছেলে বাড়িতে তার জন্য রাতের পর রাত অপেক্ষা করেছেন। স্ত্রী এবং সন্তানদের ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখতে তিনি এই সময়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে একবারের জন্যও ফেরেননি। কাজ শেষ হলে হাসপাতালের গেস্ট রুমকে বেডরুমে রূপান্তরিত করে একাই ঘুমিয়ে যেতেন। জিওভান্নি যখন প্রথম দিন করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তখন তার পুত্র ফ্রান্সেস্কো তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সন্তানকে নিরাপদ রাখতে এই ঘটনার পর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। উৎস- ডেইলি মেইল।






