মাজেদ কি নেত্রীকে হ’ত্যা করতে এসেছিল?
জয়নাল হাজারী ॥ বঙ্গবন্ধুর খু’নি এবং ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত আসামি মাজেদ দুইদিন আগে মিরপুর থেকে গ্রে’ফ’তার হয়েছে। বলা হচ্ছে সে কলকাতায় ২৫ বছর কাটিয়েছে। সে বাংলাদেশে কবে এসেছে এবং কিভাবে এসেছে, কেন এসেছে এটা এখনো পরিষ্কার নয়। সব কিছুই খানিকটা রহস্যজনক। আশা করা যাচ্ছে দুই একদিনের মধ্যেই সব কিছু খোলসা হয়ে যাবে। আমি মনে করি কলকাতায় তার সঙ্গে অসংখ্য বাংলাদেশীর বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ছিল। এদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রিয় ব্যক্তিরাও থাকতে পারে। এই নামগুলো বের করে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কোন খু’নি’কেই বাংলাদেশে পালিয়ে থাকা অবস্থায় গ্রে’ফ’তার করা হয়নি।
যখন যাতায়েতের সকল দুয়ার বন্ধ তখন মাজেদ কি করে বাংলাদেশে এলো সেটি বের করা জরুরি। যাদের গাফেলতিতে সে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাদেরকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নাই। এবার সব চাইতে রহস্যজনক প্রশ্নটি হচ্ছে ফাঁ’সি’র দ’ণ্ড’প্রাপ্ত আ’সা’মি হয়েও দীর্ঘদিন পর সে কেন বাংলাদেশে এলো। সারা পৃথিবীর মত বাংলাদেশও করোনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ঠিক সেই সময়ে মাজেদ কি আরো একটি হ’ত্যা’কান্ড ঘটাতে চেয়েছিল? মাজেদ জানে সকলের দৃষ্টি ক’রো’নার দিকে এবং এই সুযোগে আরেকটি হ’ত্যা’কা’ণ্ড ঘটাতে পারলে হয়তো তারা বেঁ’চে যাবে। এসব নিশ্চয়ই জিজ্ঞেসাবাদে বেরিয়ে আসবে। আমার কাছে এখন সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই মাজেদের দণ্ড দ্রুত কার্যকর করা। কেননা করোনা কখন কোন দিকে মোড় নেয় কেউ তা সঠিক করে বলতে পারেনা।
এমনও তো হতে পারে ফাঁ’সি দেয়ার লোকও থাকবে না। একটি ভিডিও তে দেখছিলাম একটি ছোট্ট শহরে এখন আর কেউ নেই। সবাই ম’রে গেছে এবং যে যেখানে মৃ’ত্যু’বরণ করেছে সেখানেই তাদের লা’শ পচে-গলে একাকার হয়েছে। এইরূপ পরিস্থিতি অবশ্যই কারো কাম্য নয়। তবুও এর কাছাকাছি কিছু হলে মানুষ পালাতে থাকবে। কোথাও কাউকে পাওয়া যাবে না। করোনার আ’ক্রা’মণ ছাড়াও খাদ্যের কারণেও লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে। মোটকথা সময় ক্ষেপন করার সুযোগ নেই। এখনই কথা বের করে ফাঁ’সি’র রায় কার্যকর করতে হবে। ক’রোনা’র কারণে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে আবার আমাদের দেশে অনেকে আইনের উর্ধ্বে উঠে গেছে। করোনার কারনেই ফেনী নোয়াখালির ফোর লেনের কাজ আজও যারা বন্ধ করে রেখেছে তাদের কিছুই হলো না।
সমাবেশ বন্ধ করার জন্য যেখানে মসজিদে যাওয়া পর্যন্ত আটকে দেয়া হয়েছে সেখানে যারা রিলিপ দেয়ার নামে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করেছে তাদের কিছ্ইু হলো না। যারা করোনার জন্য হাসপাতাল করার সময় হামলা করে তা বন্ধ করেছে ওদেরও কিছুই হলো না। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে যারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকায় জড়ো করেছে এবং এখনো তাদের পক্ষে কথা বলছে তাদের কিছুই হলো না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের যে মালিকরা শ্রমিকদের ঢাকায় জড়ো করেছে তাদের ব্যাপারে আজ পীর হাবিবুর রহমান অত্যন্ত জ্ঞানও গর্ব একটি নিবন্ধ লিখেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনে। আমি তাই তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। মাজেদ কি তবে এই মূহুর্তে নেত্রীকে হত্যা করতেই চুরি করে দেশে প্রবেশ করেছিল? বিষয়টিকে দয়া করে কেউ হালকাভাবে নেবেন না। লেখক উপদেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সাবেক সংসদ সদস্য। উৎস: হাজারিকা প্রদিদিন।




