313071

একতরফা জয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

দীর্ঘধুসর অবসাদের পর ক্লান্তিকর পরাজয়ের যাত্রা শেষ হলো। অবশ্য প্রতিপক্ষের নাম জিম্বাবুয়ে হলেও প্রায় আট মাস পর পাওয়া জয়ে স্বস্তি তো মেলেই।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে জয় ছিল বাংলাদেশের। এরপর শুধুই পরাজয়বৃত্তের পাথর দেয়ালে ঘুরে মাথা কুটছিল টাইগাররা। সিলেটের পূন্যভূমিতে অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজয় ছিল আগে ১৬৩ রানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকায়। সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। বাংলাদেশ আজ ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জিতেছে।

ওয়ানডেতে টানা ৫ ম্যাচে হার টাইগারদের। মাশরাফি অধিনায়ক হিসেবে ফিরে পেলেন জয়ের স্বাদ। ৩ ম্যাচের সিরিজে। বাংলাদেশ প্রথমটিতে ১৬৯ রানে জিতে ১-০ তে এগিয়ে গেল সিরিজে। সাইফউদ্দিন (৩ উইকেট) ও মিরাজ (২ উইকেট) শেষ করে দিয়েছেন সফরকারীদের। মাশরাফির ২ উইকেট বার্তা দিল বটে।

বাংলাদেশের বোলিং বৈচিত্রের কাছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের বেশ ‘খেলো’ মনে হয়েছে। ৩২২ রানের টার্গেট তো পাহাড়সমই বটে। সাইফউদ্দিন বিশ্বকাপের পর আর ওয়ানডে খেলেননি। ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলে বুঝিয়ে দেন এতদিন বাংলাদেশ তার অভাব কেন বোধ করেছে। বোলিং এসে সাইফউদ্দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ দলে তার সার্ভিস দরকার রয়েছে। জিম্বাবুয়ের ওপেনার কামুনহুকামুয়েকে বোল্ড করেন সাইফ। আর বোল্ড করেই সেই চিরচেনা উদযাপন। এরপর চাকাভাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ‘ফেনী এক্সপ্রেস’। ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন দিশেহারা তখন মাশরাফি আবার আঘাত হানেন। প্রায় ২৬৬ দিন পর উইকেট পান নড়াইল এক্সপ্রেস। ২৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

ব্রেন্ডন টেলর ও সিকান্দার রাজা আশা জাগালেও এতো বড় স্কোর তাড়া করতে যে শক্তির প্রয়োজন সেটা জিম্বাবুয়ের ছিল না। বাংলাদেশের পেসারদের সফলতার পর মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বলে ওঠেন। মাধেভিরে জ্বলে উঠেছিলেন। ৩৫ রানে তাকে ফেরান মিরাজ। টেলরকে তাইজুল বোল্ড করেন। মুটুমবাম্বি জ্বলে ওঠার আগেই হন ১৭ রানে রানআউট। আর কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান না থাকায় পরাজয়ের দিকে যেতে থাকে তারা। ৭৯ রানে ৫ উইকেট (সিকান্দার রাজা আউট ১৮ রানে) হারানোর পর তো আর ৩২২ রান তাড়া করা যায় না।

মোহাম্মদ মিথুন ও সাইফউদ্দিন বাংলাদেশের স্কোরকে ৩০০ পেরিয়ে নিয়ে যান। তবে লিটন দাস ১২৬ রানে রিটায়ার্ড হার্ট না হলে স্কোর হয়তো সাড়ে ৩০০ পেরিয়ে যেতে পারত। ছক্কা মারতে গিয়ে দলের ৩৬.২ ওভারে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। এটা ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা ও দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৯৫ বলেই সেঞ্চুরি হয়ে যায় তার। ১০৫ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ছিল ১২০। লিটন চলে গেলেন। মাহমুদউল্লাহ ও মিথুন পঞ্চম উইকেটে ৬৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তবে মিথুন ৪১ বলে ৫০ রান করে ফেরার সময় বাংলাদেশের স্কোরকে রেখে যান ২৮৯ এ। তখন ৪৮তম ওভার চলে। সাইফউদ্দিন শেষ ওভারে হালকা ঝড় বইয়ে দেন। শেষ ওভারে সাইফ তিনটি ছক্কা মারা পাশাপাশি বাংলাদেশের স্কোরে ২২ রান এনে দেন। বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩২১ রান তুলে নেয় (৩২১/৬)।

তামিম ও লিটন ওপেনিংয়ে বেশ ধীরস্থির খেলতে থাকেন। তামিম অবশ্য আগ্রাসী ছিলেন না। ধরে ধরে খেলতে হবে এই রীতি মেনে চলেছেন এই ওপেনার। তবে লিটন হাত খুলে খেলেছেন। ওপেনিং জুটি ছিল ৬০ রানের। তামিম লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দিয়ে ৪৩ বলে ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। লিটন তার ট্র্যাক থেকে আলাদা হন নাই। শান্তর সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৮০ রানের জুটি চলে আসে। শান্ত ২৯ রানে আউট হয়ে ফেরার পর মুশফিক (১৯) ও মাহমুদউল্লাহ (৩২) রান তোলায় কৃপনতা করেননি। তবে ইনিংস বড় হয়নি।

মাশরাফি আগের দিন অবসর সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ সিরিজ এটা ভাবার কোনো কারণই আর থাকে না। মাশরাফি একেবারে দাঁতে দাঁত চেপেই মাঠে আসেন। উইকেটে ঘাস ছিল। সিলেটে রবির কিরণ সকাল থেকেই ঝকমকে ছিল। ফলে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্তই নেন মাশরাফি। বাংলাদেশের একাদশে তেমন কোনো চমক ছিল না। পেসার মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন। দীর্ঘদিন পর চোট কাটিয়ে ফিরেছেন সাইফউদ্দিন। তাইজুল ও মিরাজ স্পিনার হিসেবে দলে ছিলেন। নাইম শেখের আসার কথা ছিল। তবে তিনি একাদশে সুযোগ পাননি। লিটন দাস ও তামিম ওপেনিংয়ে ছিলেন। আর নাজমুল হোসেন শান্ত নেমেছেন ওয়ান ডাউনে।

ad

পাঠকের মতামত