312788

রক্ত দিয়ে যাকে বাঁচালেন তিনিই ছুরি ঢুকিয়ে দিলেন পেটে

আব্দুস সালাম (৩৫) মাত্র কয়েক বছর আগেই নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন এক ইউপি এক সদস্যকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই ইউপি সদস্য শাজাহান আলীই (৪৫) ছরিকাঘাত করেন সালামকে। আর এতে মারা যায় সালাম।

ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের বৃ-কুষ্টিয়া চার মাথা বাজারে। ওইদিন সন্ধ্যায় একটি দোকানে চা পানের সময় প্রকাশ্যে আব্দুস সালামকে ছুরিকাঘাত করে সাবেক ইউপি সদস্য শাজাহান আলী (৪৫)। পরে রাত ১০টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান তিনি।

আব্দুস সালাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ঝালোপাড়া গ্রামের মৃত জমির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। অভিযুক্ত শাজাহান আলী উপজেলার বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে এবং চোপীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বৃ-কুষ্টিয়া চার মাথা বাজারে এক চা দোকানের বেঞ্চে আব্দুস সালাম ও শহিদুল ইসলাম পাশাপাশি বসে চা পান করছিলেন। এমন সময় শাজাহান আলী হঠাৎ করে এসে আব্দুস সালামের শার্টের কলা ধরে বলে তুই কি হয়েছিস। তোকে আজ শেষ করে ফেলব। এ কথা বলেই আব্দুস সালামের বা পাঁজরে পরপর তিনবার ছুরিকাঘাত করে।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী এনামূল ফকির জানান, তিনিও ওই বাজারে বসে ছিলেন। হইচই শুনে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুজনকে দুই দিকে সরিয়ে দিয়ে গিয়ে দেখা যায় আব্দুস সালামের বাম পাঁজর রক্তাক্ত হয়ে গেছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শাজাহান আলী রক্তমাখা ছুরি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, শাজাহান আলী, নয়ন, আব্দুস সালাম ও তারেক এরা সবাই প্রায় এক সঙ্গে চলাফেরা করত। এরা বন্ধুর মতো ছিল।

এ ঘটনায় বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) সনাতন চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শনের গেলে স্থানীয়রা এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দেন।

এ সময় ওসি আজিম উদ্দীনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে পাশের বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা শাজাহান আলীর স্ত্রী ও এক শিশু কন্যাকে স্থানীয়রা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।

ওসি আজিম উদ্দিন জানান, স্থানীয়রা মনে করেছিলেন শাজাহান আলীসহ তার স্ত্রী ও সন্তান ওই বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। কিন্তু পুলিশ গিয়ে শাজাহান আলীকে পায়নি। মরদেহের পোস্টমর্টেম শেষে স্বজনের হাতে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে পুলিশ হত্যার ক্লু উদ্ধার করেছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ad

পাঠকের মতামত