311774

জুতা সেলাই করলেও শিক্ষার মর্ম বোঝেন মিরপুরের এ বাবা

তার কাছে আসেন বড় বড় সাহেবরাও। এসেই পা-টা বাড়িয়ে বলেন- ‘এটা মজবুত করে সেলাই করে দে তো’। প্রাণেশ চন্দ্র ঋষি পড়ালেখা জানেন না, তারপরও চেষ্টা করেন ভালো আচরণ করতে। তিনি জবাব দেন, ‘স্যার, ২০ টাকা লাগবে।’ নিজে শিক্ষিত না হলেও শিক্ষার মর্যাদা ঠিকই বুঝেন প্রাণেশ। তার আরেক প্রমাণ, তার ছেলেকে নিয়ে অবসর কাটানোর চিত্রটা।

এক হাতে জুতার কালি-সুঁইসুতা, অন্য হাতে ছেলে নক্ষত্র। বাপ-বেটা মিলে বেরিয়ে পড়েন সকাল হলেই। প্রাণেশের জীবন সংগ্রাম রাত পর্যন্ত চলে, সেই সঙ্গে ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরির মিশনও। দমে যাননি, থেমে থাকেননি। তার কথা- ছেলে হতে হবে মানুষের মতো মানুষ।

পেশায় মুচি প্রাণেশের বাড়ি ফরিদপুরে। জীবিকার তাগিদে বহু বছর আগে ঢাকার মিরপুরে চলে এসেছেন। তবে তিনি কাজ করেন সেগুনবাগিচার ফুটপাতে। নিজে পড়েছিলেন পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত। তাই তৃতীয় শ্রেনীতে পড়া ছেলেকে পড়ালেখা দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন কাজ করতে করতে। ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন সেগুনবাগিচা প্রাইমারি স্কুলে।

এ কাজ করে ছেলেকে পড়ালেখা করানো কতটা চ্যালেঞ্জিং? জবাবে প্রাণেশ বলেন, ‘সকালে বের হই ছেলেকে নিয়ে। তাকে স্কুলে দিয়ে আমি কাজ শুরু করি। তার স্কুল শেষ হলে আমার সঙ্গে বসে সে, কাজ শেখাই না। নিজে যতটুকু জানি তাকে পড়াই। কোনোমতে স্কুলের খরচ চালাচ্ছি। কিন্তু সে যখন আরো উপরের ক্লাসে উঠবে তখন যে কীভাবে খরচ চালাবো, সে চিন্তা এখনই মাথায় ঘোরে।’

ছেলের জীবন যেন তার মতোই কষ্টের না হয় সেজন্যই এই কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন প্রাণেশ। স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলেমেয়ে সুশিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তার সন্তানেরা যেন নিজের এবং দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে সেই আশায় বুক বেঁধেছেন জীবনযুদ্ধে হার না মানা এ পিতা।

ad

পাঠকের মতামত