311505

সাইফের অভিষেক হচ্ছে, ৭ ব্যাটসম্যান ৩ পেসার ১ স্পিনারের একাদশ

টিম কম্বিনেশন কি হবে, তা না জানালেও দেশ ছাড়ার আগে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো ব্যাটিং অর্ডার খোলাসা করে দিয়ে গেছেন। ব্যাটিংয়ে কে কার পরে নামবেন, সেটি জানিয়েই গেছেন টাইগার কোচ।

অভিষেকের অপেক্ষার প্রহর গোনা সাইফ হাসান, লিটন দাস নাকি সৌম্য সরকার? তামিম ইকবালের সাথে ওপেন করবেন কে? ওয়ান ডাউনে কি মুমিনুল হকই ফার্স্ট চয়েজ? নাকি ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহীম না থাকায় সেখানে কোনো অভিজ্ঞ, পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত পারফরমারকে খেলানো হবে? এসব প্রশ্নের জবাব দিয়েই দেশ ছেড়েছেন টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো।

তার কথায়ই পরিষ্কার হয়েছিল, রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ ৭ স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলবে। কারণ তিনি একদম পজিশন ধরে ধরে বলে দিয়েছেন কে কত নম্বরে ব্যাট করবেন?

কোচ জানিয়ে গেছেন, তামিম ইকবালের সাথে ইনিংসের সূচনা করবেন তরুণ সাইফ হাসান। আর মুমিনুল নেবেন মুশফিকুর রহিমের জায়গা। মানে তার চিরচেনা ও অভ্যস্ত পজিশন ওয়ান ডাউন থেকে নিচে নেমে চারে খেলবেন অধিনায়ক মুমিনুল। আর তিন নম্বরে নামানো হবে নাজমুল হোসেন শান্তকে।

পাঁচ নম্বরে ধীরস্থির মোহাম্মদ মিঠুনই কোচের প্রথম পছন্দ। তার কথাই বলে গেছেন ডোমিঙ্গো। ছয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যেহেতু দলে কোন অলরাউন্ডার নেই, তাই সাত নম্বরে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন দাসকেই খেলানোর কথা বলেছেন কোচ। তখনই বোঝা যাচ্ছিলো, সৌম্য সরকারকে তবে খেলানো হচ্ছে না। ব্যাটসম্যান সাতজনই থাকবে। তার বেশি করার অর্থ বোলার কমিয়ে ফেলা। যা করার অবকাশ নেই।

সর্বশেষ খবর, তা করা হচ্ছেও না। কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো যেভাবে বলে গেছেন, সেটাই হতে যাচ্ছে। অধিনায়ক মুমিনুল হক আর দলের সঙ্গী নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কেউ একাদশ সম্পর্কে মুখে একটি কথা না বললেও জানা গেছে একাদশ চূড়ান্ত।

কোচ যে ৭ ব্যাটসম্যানের নাম বলে গেছেন, তারা সবাই আছেন ‘ইলেভেনে।’ তার মানে রাওয়ালপিন্ডিতে অভিষেক ঘটছে তরুণ ওপেনার সাইফ হাসানের। তামিম ইকবালের সাথে ইনিংসের সূচনায় থাকবেন ২০ বছর বয়সী এই উইলোবাজ। এছাড়া নাজমুল শান্ত ওয়ান ডাউন, মুমিনুল চার, মিঠুন পাঁচ, মাহমুদউল্লাহ ছয় আর লিটন দাসের সাতে খেলা প্রায় নিশ্চিত।

এখন ব্যাটসম্যানদের নাম-ধাম ও সংখ্যা তো জানা হলো। তাহলে বোলার কারা? বাকি চারজন নিশ্চয়ই বোলার? সেই চারজনের পেসার কজন আর স্পিনারের সংখ্যা কত? খুব জানতে ইচ্ছে করছে, তাই না?

তাহলে শুনুন, খুব স্বাভাবিকভাবেই বাকি চারজনই বোলার। তিনজন পেসার আর একজন স্পিনার। রাওয়ালপিন্ডি ‘স্পিডস্টার’ শোয়েব আখতারের শহর, কাজেই উইকেটে বল পিচ পড়ে বাড়তি গতিতে আসবে, বাউন্সও বেশি থাকবে-সেটাই তো স্বাভাবিক।

আর তা যদি হয়, তাহলে তিন পেসার খেলানো ছাড়া পথ থাকবে কি? প্রচন্ড শীত, সকালে ঘন কুয়াশাভেজা সকালে খেলা শুরু, বাড়তি পেসারের প্রয়োজনীয়তা আছে বৈকি! তাই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর কথায় পরিষ্কার আভাস, পেসার তিনজনই খেলানো হবে। আর সাথে একজন মাত্র স্পিনার।

এখন সেই তিন পেসার কারা আর একমাত্র স্পেশালিস্ট স্পিনারই বা কে? এ প্রশ্নর উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে চারটি নাম, তারা হলেন-আবু জায়েদ রাহি, ইবাদত হোসেন, রুবেল হোসেন আর তাইজুল ইসলাম।

প্রথম দুজন ভারতের সাথে টেস্টে বেশ ভাল বল করেছেন। রাহি তো এক টেস্টের এক ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারিও ছিলেন। ভারতের অমন বাঘা বাঘা ৫ ঝানু ব্যাটসম্যানকে আউট করা পেসার আবু জাইদ রাহি পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম পছন্দ হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। সাথে ইবাদতের থাকাটাও মোটামুটি অনুমিত ছিল। এই পেসারও ফর্মে আছেন, ভাল বোলিং করে যাচ্ছেন। শুধু থার্ড পেসার হিসেবে কারো কারো পছন্দে ছিলেন আল আমিন হোসেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আল আমিন প্রথম একাদশে নেই।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একাদশ নিয়ে আলাপে প্রধান নির্বাচক জানান-বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, পেসার আল আমিন হোসেন আর অফস্পিনার নাইম হাসান ১১ জনের বাইরে। তার মানে থার্ড পেসার রুবেল হোসেন। আর একমাত্র স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

এ মুহূর্তে দলের বোলিং ডিপার্টমেন্টটা অনভিজ্ঞ। অপরিণত বোলারে ঠাসা। সেখানে তাইজুলই মোটামুটি অভিজ্ঞ, পরিণত। মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। ১০০+ টেস্ট উইকেট নামের পাশে। তাই স্পিনার হিসেবে তাইজুলকে খেলানোরই কথা।

তারওপর পাকিস্তান লাইন আপে বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাঁহাতির সংখ্যা খুব কম। ডানহাতি বেশি। তাই তাইজুল প্রায় অটোমেটিক চয়েজ হয়ে গেছেন। পাকিস্তান ব্যাটিং অর্ডারে বাঁহাতির সংখ্যা বেশি থাকলে হয়তো অফব্রেক নাইমেরও সম্ভাবনা থাকতো।

তার মানে একাদশ দাঁড়ালো এমন :
তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি, রুবেল হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

সূত্রঃ জাগো নিউজ

ad

পাঠকের মতামত