310827

দাফনের দশ দিন পর তোলা হলো জেরিনের মরদেহ

দাফনের দশ দিন পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মাদিনাতুল কোবরা জেরিনের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুনরায় দাফন করা হবে।

এদিকে জেরিনের মৃত্যুর পর প্রথমে সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে মনে করে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন কাহিনী। সড়ক দুর্ঘটনা নয় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে সিএনজি অটোরিকশা থেকে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

তাই আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থী জেরিন সদর উপজেলার ধল গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার কন্যা।

গত ১৮ জানুয়ারি স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জেরিনের বাড়ির সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখে একই গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে প্রেমিক জাকির হোসেন। পরে জেরিন বাড়ি থেকে বের হয়ে সিএনজিতে ওঠে। পথে জাকির হোসেন ও তার সহযোগী হৃদয় সিএনজিতে ওঠে। সিএনজিতে ওঠার পর তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় জাকির হোসেন জেরিনকে অপরহরণ করে নিয়ে যেতে চাইলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

এক পর্যায়ে জেরিনকে সিএনজি থেকে ফেলে দেয় জাকির ও তার সহযোগিরা। পরে আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাতে মারা যায়। ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা মনে করা হলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সড়ক দুর্ঘটনা নয় এক তরফা প্রেমের বলি হয় শিক্ষার্থী জেরিন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ad

পাঠকের মতামত