305149

যৌতুকের ১১ লাখ ফিরিয়ে দিয়ে সমাজকে দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দিলেন বর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ এক বিএসএফ সদস্য যৌতুককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সমাজকে দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দিলেন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষে যৌতুক হিসেবে ১১ লাখ টাকার প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন পাত্র। তার এমন বলিষ্ঠ পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়োচ্ছে নেটিজেনদের।

শনিবার ভারতের জয়পুরের আম্বা বাড়ি এলাকায় বসেছিল জওয়ান জিতেন্দ্র সিংয়ের বিয়ের আসর। দেশের সেবায় নিয়োজিত পাত্রকে পেয়ে খুশি শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এমন সুপাত্রের জন্য ভালবেসে যৌতুক হিসেবে ১১ লক্ষ টাকা দেয়ার কথা ভেবেছিলেন তারা।

কিন্তু পাত্রের কানে খবর যেতেই তিনি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। জানিয়ে দেন, যৌতুক নিতে তিনি আগ্রহী নন। আশীর্বাদ স্বরূপ ১১ টাকা ও একটি নারকেল দিলেই তিনি খুশি হবেন।

জিতেন্দ্রর কথায় প্রথমে খানিকটা ঘাবড়েই গিয়েছিলেন কনের বাড়ির লোকেরা। হয়তো কোনো আচরণে অসম্মানিত হয়েছেন তিনি। এমনটাই ভেবে বসে পরিবার। কিন্তু জওয়ান যখন বুঝিয়ে বলেন, তিনি যৌতুকের বিরোধী, তখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়। আনন্দে আপ্লুত হয়ে ওঠে কনের পরিবার।

জিতেন্দ্র কাজের সূত্রে থাকেন ছত্তিশগড়ে। সাত পাকে বাঁধা পড়তে ছুটি নিয়ে সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন জয়পুর।সেখানেই চঞ্চল শিখাওয়াতের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করলেন তিনি। আর বিয়ের দিনই যৌতুকপ্রথার বিরোধিতা করে নতুন পরিবারের চোখে হয়ে ওঠেন নায়ক।

কনের বাবা গোবিন্দ সিং শিখাওয়াত বলছেন, প্রথমে পাত্রের কথা শুনে চমকে গিয়েছিলাম। ভেবেছি, হয়তো আরো বেশি যৌতুক চান তারা। অথবা আমাদের ব্যবহারে তারা দুঃখিত। পরে জানতে পারি, গোটা পরিবারই যৌতুক নিতে আগ্রহী নয়।

জিতেন্দ্রর কথায়, শিক্ষিতা আইন পাশ করা মেয়েকে পাত্রী হিসেবে পেয়েই তিনি খুশি। তার পরিবারও চায়, বিয়ের পর উচ্চশিক্ষায় যেন মন দেন চঞ্চল। সমাজে যৌতুকপ্রথা এখনো অভিশাপের মতো। পণ না দিতে পারায় শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে নির্যাতনের শিকারও হতে হয় গৃহবধূদের। সেখানে জিতেন্দ্র ও তার পরিবারের এই সিদ্ধান্ত গোটা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

ad

পাঠকের মতামত