301967

মিন্নির দেহে এখনো সেই দাগ!

কিছুদিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তিনি এখন বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার বাবার বাড়িতে বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় রয়েছেন।

এর আগে, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মিন্নি। তারও আগে স্বামীর নৃশংস খুন নিজ চোখে দেখে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছেন তিনি। এখনো ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন মিন্নি। চিৎকার করে ওঠেন নিজের অজান্তেই। মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি নিজেই এসব তথ্য গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দুই দিন আগে আমার মেয়ে ঢাকা-হবিগঞ্জ হয়ে বরগুনায় এসেছে। কিন্তু এ বাসায় এসে সে আবারো ভেঙে পড়েছে। কারণ, এ বাসার প্রতিটি আনাছে-কানাছে তার স্বামীর স্মৃতি। ফলে গভীর রাতে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

মিন্নির মা আরও বলেন, আমার মেয়ে এমনিতেই খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে রিফাতের স্মৃতি তাকে জ্বালিয়ে মারছে। এর বাইরে পুলিশি নির্যাতনে শরীরের ব্যথাও এখনো ঠিক হয়নি। একটু খানি মেয়ে এই বয়সে কত ধরণের কষ্ট সহ্য করছে। মিন্নির মা আরও বলেন, তার চেহেরার দিকে ঠিক মত তাকানো যায় না। তার শরীরে এখনো সেই দাগ (পুলিশি নির্যাতন) রয়েই গেছে।

জানা গেছে, দুই শর্তে হাইকোর্টের রায়ে জামিন পেয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন মিন্নি। কারামুক্ত মিন্নির সঙ্গী এখন শারীরিক অসুস্থতা। একপ্রকার মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে বাবার বাড়িতে জীবনযাপন করছেন তিনি।

এখনো মিন্নি মা-বাবা ছাড়া আর কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে কোনো উত্তর দেন না, ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকেন। পুলিশ নির্যাতন করেছে কিনা জিজ্ঞেস করলে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে তার গাল বেয়ে। মুখ ফোটে কিছুই বলেন না। কি যেন অব্যক্ত কষ্ট পাথর চাপা দিয়ে রেখেছেন বুকে।

মিন্নির বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মিন্নি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল, চঞ্চল ও সদালাপী। কিন্তু বর্তমানে পাল্টে গেছেন মিন্নি। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন। কী যেন একাকিত্ব ভর করেছে তার মনের মধ্যে। শারীরিকভাবে অসুস্থ মিন্নি এখন স্বামী রিফাত শরীফের স্মৃতিতে কাতর। একরাশ বিষণ্নতা নিয়ে একাকি ঘরে দিন কাটে মিন্নির। তবে মিন্নির এমন জীবনযাপনে চিন্তিত স্বজনরা। উদ্বিগ্ন তার বাবা-মাও।

এর আগে অবশ্য মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেছিলেন, পুলিশ হেফাজতে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে মেয়েটার ওপর। দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে মিন্নির। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। খেতে চায় না কিছুই। নিজের ঘরে সবসময় চুপচাপ থাকে সে। কখনো কেঁদে উঠে মিন্নি। যে ঘরে মিন্নি থাকে সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি। এসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে মিন্নি।

প্রসঙ্গত, বরগুনা সরকারি কলেজগেটের সামনে ২৬ জুন সকালে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার সঙ্গীরা মিন্নির স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করে। বিকেলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও বাকি ১৫ জন আসামি কারাভোগ করছেন। এরপর থেকে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন মিন্নি।
সূত্রঃ আমার সংবাদ

ad

পাঠকের মতামত