ফারহা নাজকে চাপা দেয়ার কথা স্বীকার চালক শামীমের
রাজধানীর মহাখালীর আমতলীতে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা ফারহা নাজকে চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসের বেপরোয়া বাসের (ঢাকা মেট্রো জ-১১-৩০০৩) চালক শামীম ছৈয়াল।
মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। জবানবন্দিতে তিনি ফারহা নাজকে চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করেন।
বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে চালক শামীম ছৈয়ালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তখন ডিবি উত্তর বিভাগের এডিসি শাহজাহান সাজু বলেন, ঘটনার দিনই বনানী থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি প্রথমে তদন্ত শুরু করে বনানী থানা পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকালে অভিযান চালিয়ে বাসটির চালক শামীমকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের এডিসি মো. জোনায়েদ আলম সরকার বলেন, ঢাকা-ভৈরব রুটের অনুমোদন নিয়ে বাসটির মালিক ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসের ব্যানারে মিরপুর-১৪ থেকে বনানী-কাকলী রুটে পরিচালনা করে আসছিলেন। অন্যদিকে চালক শামীমের ড্রাইভিং লাইসেন্স হালকা ধরনের গাড়ি চালানোর জন্য অনুমোদিত ছিল। কিন্তু তিনি আইন লঙ্ঘন করে মাঝারি ধরনের বাস চালিয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, নিহত ফারহা নাজ মহাখালীর রাইসকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিমিটেড প্রাগন হাউজে চাকরি করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ফারহানাজকে অফিসে যাওয়ার জন্য তার স্বামী মহাখালী আমতলী ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে নামিয়ে দিয়ে যান। ফারহানাজ রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।
তখন ক্যান্টনমেন্ট মিনি সার্ভিসের ওই বাস দ্রুত বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ফুটপাতের ওপর উঠিয়ে দেন চালক। এতে বাসের ধাক্কায় ফারহা নাজ গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। এ ঘটনায় কাওছার গোমস্তা নামে আরও এক পথচারী আহত হন।
ঘটনাস্থলে ওই বাসের চালক ও হেলপার বাসটি ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় ফারহা নাজকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।




