299766

স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে রাজনীতি-ফেসবুক!

শিক্ষার্থীদের শারীরিক আঘাত বা মানসিক বিপর্যস্ত করা, অশালীন বা অসৌজন্যমূলক আচরণ অর্থাৎ স্কুল বুলিং থেকে সুরক্ষা দিতে একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।নীতিমালায় স্কুলে ফেসবুক ব্যবহার, আইসিটি ডিভাইস বহন, ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।কোনো শিক্ষার্থী নীতিমালা ভঙ্গ করে এসব ব্যবহার করলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে নীতিমালায়।

স্কুল বুলিং প্রতিরোধে, পরিবার, সমাজ এবং স্কুল কী করবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।সূত্রে আরো জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে প্রায় দুই বছর পর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।শনিবার (২৪ আগস্ট) ব্যানবেইসে সারাদেশে শতাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবকদের নিয়ে একটি কর্মশালার মাধ্যমে ‘স্কুল বুলিং নীতিমালা-২০১৯’ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীতিমালায় বুলিং প্রতিরোধের উপায় হিসেবে পারিবারিক শিক্ষা, অভিভাবক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।খসড়া নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করণীয় নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ শেখানোর দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

নীতিমালায় বুলিংয়ের ব্যাপারে কঠোর নীতি অবলম্বন করাতে বলা হয়েছে। শাস্তি দেয়ার চেয়ে বুলিং করলে কঠোর শাস্তি পেতে হয়- এ ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে।বুলিং করলে স্কুল থেকে টিসি দিয়ে দেয়া হবে এমন বার্তা সবার মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে। প্রয়োজনে টিসি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলে দ্রম্নত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করা যাবে না। প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করতে হবে। অভিভাবকদের ডেকে বোঝাতে হবে। বুলিং রোধে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, করিডোর, ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি মনিটরিং করতে হবে।এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে বুলিংয়ের ব্যাপারে আতঙ্ক কাজ করবে। বুলিংয়ের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি হয় এমন নাটক-সিনেমা দেখার পাশাপাশি স্কুলে এসব নাটক শিক্ষার্থীদের দিয়ে মনস্থ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বুলিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীকে প্রথমে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষক, কর্মচারীদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। বুলিং ক্রিমিনাল ক্রাইম না হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন।শিক্ষকদের কোনো চাপমুক্তভাবে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। শিক্ষক যুক্তিসঙ্গত উপায়ে তা হ্যান্ডেল করবেন। বুলিংয়ের শিকার ও বুলিং করা উভয়ের কাছে লিখিত নেয়ার ব্যবস্থা করা উত্তম।

এক্ষেত্রে কেউ সাক্ষী থাকলে তার থেকেও লিখিত রিপোর্ট নেয়া যাবে। বুলিংয়ের শিকার ও বুলিং করা উভয়কে আলাদাভাবে বা একসঙ্গে প্রতিরোধ কমিটি প্রয়োজনীয় কথা বলবে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *