‘মৃত ভেবে ঢামেক মর্গে ফেলে রাখা হয়েছিল আমাকে’
ভয়াল ২১ আগস্টের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন যুবলীগ নেত্রী রত্না আক্তার রুবি। আমার সংবাদের কাছে সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তিনি। ২১ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার কার্যকর দেখে মরতে চান গ্রেনেডহামলায় আহত যুবলীগের কর্মী রত্না আক্তার রুবি। ঘটনার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রায় ৫০টি স্প্লিন্টার শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন ৪০ বছর বয়সি এই যুবলীগ নেত্রী।
ওইদিনের ঘটনায় পাল্টে যায় রুবির জীবনের রং। সুন্দর গোছানো জীবনের পরিবর্তে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় সময় কেটেছে তার। শত কষ্ট হলেও ছেড়ে যাননি ভালোসার দল আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে। আওয়ামী লীগের এমন কোনো কর্মসূচি নেই যেখানে রুবি উপস্থিত থাকেন না। দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মী তাকে চেনেন ও ভালোবাসেন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রত্না আক্তার রুবির সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়।
স্মৃতিচারণ করে যুবলীগ নেত্রী রুবি বলেন, ওইদিনের সমাবেশ মঞ্চের ট্রাকে ওঠার সিঁড়ির কাছে অবস্থান ছিলো আমার। নেত্রী বক্তব্য শেষ করার পরপরই দক্ষিণ পাশের রমনা ভবনের দিক হতে গ্রেনেড মারা হলো। গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর মঞ্চের নেতারা অনেকে নিচে পড়ে যান। গ্রেনেডহামলায় পর আমি রক্তাক্ত হই, অনেকেই আমার ওপর পড়ে যান। এরপর আর কিছু মনে নেই, আমি জ্ঞান হারাই। আমাকে মৃত মনে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রাখা হয়েছিল।
পরে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর দেখতে পাই আমি মর্গে অন্য লাশের পাশে। এরপরই ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠি। কিন্তু শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা পিছু ছাড়েনি আমার। এখনো স্প্লিন্টার শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছি। প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিচ্ছি। সংসারের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় চিকিৎসায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওইদিন হত্যাকারীদের টার্গেটে ছিলেন নেত্রী। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। তিনি বেঁচে না থাকলে আজ আমরা বেঁচে থাকতাম না। তিনি আমাদের সব ধরনের চিকিৎসা করিয়েছেন। নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন, এতেই আমরা খুশি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী আছেন বলেই শত যন্ত্রণার মাঝে আমরা শান্তিতে আছি। না হলে ওই হায়েনারা আমাদের মেরে ফেলতো। তিনি বলেন, গ্রেনেডে আহত হওয়ার পর আমি কোনোদিন ভাবি নাই যে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারব। কিন্তু ভিতরে একটা সাহস ছিলো, নেত্রী পাশে ছিলেন। আমাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, কারো ছেলের চাকরি দিচ্ছেন, কারো মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।
অনেককে সংসদ সদস্যও করেছেন। আমরা এতেই খুশি। এখনো যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, আমি তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। রত্না আক্তার রুবি বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ করে যাবো, নেত্রীর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তার একজন কর্মী হিসেবে মরতে চাই।
২১ আগস্টের বিচার নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ওইদিনের ঘটনায় এতোগুলো মানুষ মরলো, শত শত মানুষ আহত হয়ে পঙ্গু হলো কিন্তু এখনো এর বিচার হলো না। রায় হলো, সেটা কার্যকর হয়নি। আমরা চাই যতদ্রুত সম্ভব হত্যাকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক। ২১ আগস্টের খুনিদের রায় কার্যকর দেখে যেন মরতে পারি, এখন এটা চাই।





