হাসতে চায় সমর্থকরা, ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান চায় বাংলাদেশ
দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে বাংলাদেশ এখনো কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। এর আগে ছয়টি টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। আজ ত্রিদেশীয় সিরিজের আরেকটি ফাইনাল খেলতে নামবে বাংলাদেশ দল। স্বাভাবিকভাবেই আবারও জেগে উঠেছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে প্রথম শিরোপা জয়ের আশা। আজ প্রথম ওয়ানডে জয়ের তারিখটির সঙ্গে প্রথম শিরোপা জয়ের তারিখটি মিলে গেলে কিন্তু বেশ হয়!
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার দল এমন এক দিনে প্রথম শিরোপার জন্য মাঠে নামছেন , যে দিনটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঐতিহাসিক। এদিনই যে নিজেদের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটা জিতেছিল বাংলাদেশ!
ধরে নেওয়া যাক, আন্তর্জাতিক ময়দানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের শুরুর সঙ্গে আপনার বেড়ে ওঠা। মানে, বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ওই সময়টা আপনার শৈশবের অংশ। তাহলে দিনটি তো মনে আছে, নাকি? ভুলে গেলেও সমস্যা নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাফল্য তো এরপর কম আসেনি। কত বড় বড় দলের বিপক্ষে জয় এসেছে। সাফল্যের পর সাফল্যের পরতে প্রথম সাফল্যের সেই দিন-তারিখ ভুলে যাওয়াটা তাই দোষের কিছু না। তবে আজ কিছুটা কাকতালীয়ভাবেই সে দিনটা মনে করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ আরেকটি ‘প্রথম’ সাফল্যের খোঁজ করতে নামছে ঠিক সে দিনটিতেই। ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ভারতের হায়দরাবাদে এসেছিল প্রথম ওয়ানডে জয়টি, আজ ২১ বছর পর সেই ১৭ মেতেই বাংলাদেশ নামবে নিজেদের প্রথম শিরোপাটির জন্য।
১৯৯৮ সালের ১৭ মে। কেনিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে প্রথম জয়টি তুলে নিল। সেদিনের সেই জয়ের অনুভূতি অনির্বচনীয়। হায়দরাবাদে ত্রিদেশীয় একটি টুর্নামেন্টে পাওয়া সেই জয়টিই তো পরবর্তী সব সাফল্যের ভিত। ২১ বছর পর সে তারিখেই প্রথম ওয়ানডে টুর্নামেন্ট জয়ের অপেক্ষা।
নব্বইয়ের প্রজন্মের সে দিনটি ভুলে যাওয়ার কথা নয়। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে তখনকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়ার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। আগের বছর ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেন হামাগুড়ি দিয়ে চলার চেষ্টা করা ‘শিশু’। না, আন্তর্জাতিক ময়দানে আরও আগেই খেলেছে বাংলাদেশ। ১৯৮৬,১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯৫ আর ১৯৯৭-তে খেলা হয়ে গেছে পাঁচটি এশিয়া কাপ। নব্বইয়েই অস্ট্রেলেশিয়া কাপ নামের একটি টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া গেছে। ১৯৯৮ সালে তাই একটা জয়ের জন্য কায়মন প্রতীক্ষা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর তত দিনে ১০ ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম জয়ের খোঁজে ছিল বাংলাদেশ। আর আইসিসি ট্রফি থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কেনিয়ার কাছে হারটা দেশের ক্রিকেটার থেকে সমর্থকেরা মেনে নিতে পারত না। আর দিবা-রাত্রির সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জয়ের খাতা খুলেছিল কেনিয়াকে হারিয়েই।
সেদিন একটি ওয়ানডে জয় যেমন ক্রিকেটপ্রেমীদের অধীর প্রতীক্ষা হয়ে ছিল, ঠিক তেমনি আজ ২১ বছর পর ক্রিকেটপ্রেমীদের অধীর অপেক্ষা একটি টুর্নামেন্ট জয়ের। আশাভঙ্গ কম হয়নি। গত দশ বছরে আমাদের ক্রিকেটের নতুন পথচলায় একে একে এসেছে ছয়টি ফাইনাল। কিন্তু প্রতিবারই আক্ষেপ। কখনো ২ রানের হার, কখনো তীরে এসে তরী ডোবা। আজ ঐতিহাসিক একটি তারিখের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কি পারবে, সপ্তমবারে সাফল্য পেতে?
হোক প্রার্থনা, ডাবলিনেও ফিরে আসুক হায়দরাবাদের ফল— জয়। তাহলে ২১ বছর আগের সেই ‘প্রথম’ ইতিহাস রাঙিয়ে যাবে আরেকটু, যদি আসে প্রথম শিরোপা আজ!





