294312

প্রধানমন্ত্রীর চেক নয়, সেই শিক্ষার্থী ফেরত পেলেন ১০ হাজার টাকা

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল মোমিনকে (১২) দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর চেক নয়, বরং চেক থেকে তোলা ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম শহিদুল ইসলাম। গতকাল বুধবার বিকেলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার তৎপরতায় ওই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি।আব্দুল মোমিন কলারোয়া উপজেলার উত্তর সোনাবাড়িয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে ও স্থানীয় কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

শিক্ষার্থীকে দেওয়া ‘প্রধানমন্ত্রীর চেক’ হজম করলেন প্রধান শিক্ষক!-এই শিরোনামে বুধবার ‌‘দৈনিক আমাদের সময়’সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা ভাইরাল হয়ে যায়।এদিন বিকেলেই দুদকের একটি টিম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফার উদ্দিনসহ দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে তদন্তে যান। পরে তাদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল মোমিন ও তার পরিবার এবং অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির আলোচনার পর ঘটনার সত্যতা পান।

এ সময় তাদের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চেকটি ফেরত দিতে না পারলেও চেক থেকে উত্তোলনকৃত ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক এসএম শহিদুল ইসলাম।স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, দুপুরের পর আকস্মিক খুলনা থেকে দুদকের একটি টিম কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আসেন। খবর পেয়ে স্থানীয় উৎসুক গ্রামবাসী বিদ্যালয় চত্ত্বরে উপস্থিত হন। পরে দুদক কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়-শিক্ষার্থী মোমিন ও তার পিতা আনছার আলী এবং প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুনছুর আলীর সঙ্গে আলাদাভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন।

পরে প্রধান শিক্ষককে চেকের টাকা তাৎক্ষণিক ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত জনতার সামনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চেকের নগদ ১০ হাজার টাকা মোমিনকে ফেরত দেন শহিদুল হক।দুদক কর্মকর্তারা জানান, মোমিনের দাবিকৃত জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আত্মসাৎকৃত আরও ১৫ হাজার টাকা আগামী দুদিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন প্রধান শিক্ষক।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোমিনের বাবা আনছার আলী জানান, এ ঘটনায় দুদকের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। তবে কারা কমিটিতে আছে তাদের নাম তিনি বলতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফার উদ্দিনের মোবাইল ফোনে (০১৭১৮-৫৫১৬১৭) কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি কাজে বাইরে আছেন বলে জানানো হয়। এমনকি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুদক কর্মকর্তাদের নির্দেশে ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছি। তবে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার অঙ্গীকারের তথ্যটি ঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, সাতক্ষীরা বা কলারোয়া থেকে উক্ত টাকা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার দৌঁড়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার ও জাতীয় পর্যায়ে ৩য় স্থান অধিকার করে আব্দুল মোমিন (১২)। চলতি বছরের ১৩ মার্চ রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে শিশু শিক্ষার্থী মোমিনকে মেডেল, সনদপত্র ও আর্থিক প্রণোদনার একটি চেক তুলে দেন।

এ সময় উপস্থিত থাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের পরেই চেকের পিছনে মোমিনের দুটি স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে নিজের কাছে রাখেন এবং পরে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন। এমনকি কত টাকার চেক সে বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি।এ ঘটনায় মোমিনের পিতা আনছার আলী গতকাল মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া চেকটি ফেরত পেতে এবং দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর দৈনিক আমাদের সময়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশিত হয়।

ad

পাঠকের মতামত