‘হামলাকারী আমার নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে যায়’
শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা হামলার এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে পৌঁছেছে। পর পর আটটি জায়গায় বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন আরও ৫০০ জন মানুষ। এ হামলায় কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান কাটুয়াপিতিয়ার সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চের স্থানীয় দিলিপ ফারনেন্দ। গণমাধ্যম এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলিপ জানান, গতকাল রোববার সকালে ইস্টার সানডের প্রার্থনার জন্য পরিবারসহ সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চে যান তিনি। কিন্তু সেখানে প্রচুর পরিমাণে মানুষের ভিড় থাকার কারণে ওই গির্জায় প্রার্থনায় সামিল হতে পারেননি তিনি।
দিলিপ বলেন, ‘সেখানে মানুষের ভিড়ের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে আমার দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত ছিল না। তাই আমি সেখান থেকে বের হয়ে স্থানীয় অন্য একটি গির্জায় চলে যাই।’ এই পদক্ষেপেই হয়তো স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে যান দিলিপ। ঘটনার সময় সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চে তার পরিবারের অন্যান্য সদদ্যরাও ছিলেন। তারা এই হামলায় বেঁচে গেছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি। তবে ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তারা বিস্ফোরককারীকে দেখেছেন বলে দাবি করেন দিলিপ।
তিনি বলেন, ‘ভিড়ের শেষে একজন যুবক একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে গির্জায় প্রবেশ করেন। সে আমার নাতনির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মাথায় হাতও বুলিয়ে যান। সেই বিস্ফোরককারী ছিলেন।’ এদিকে রোববারের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়ছে। আজ সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিবিসি জানিয়েছে, রোববার সকালে ইস্টার সানডের আয়োজনকে ঘিরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে কোচচিকাদে এলাকার সেইন্ট অ্যান্থনি চার্চ, কাটুয়াপিতিয়ার সেইন্ট সেবাস্টিয়ানের চার্চ এবং বাত্তিকালোয়ার একটি গির্জায় বোমা হামলা চালানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাজধানী কলম্বোর তিনটি হোটেল-সাংগ্রি লা, কিংসবারি ও সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলেও বোমা বিস্ফোরণ হয়। এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিমানবন্দরগুলোতে জোরদার করা হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল বিশ্ববিদ্যালয়।




