292064

ধর্ষিতার বাবাকে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বললো ধর্ষক

নিউজ ডেস্ক।। গফরগাঁও উপজেলার কালাইপাড়-জালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৪) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। ওই ছাত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ওই ছাত্রীর পরিবার, এলাকাবাসী ও গফরগাঁও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছয়বাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র রিক্সা চালকের কন্যা স্কুলছাত্রীকে একই গ্রামের জুয়েল মাঝির বখাটে ছেলে হৃদয় (২৩) বাড়িতে এক পেয়ে ধর্ষণ করে এবং তার বন্ধুদের সহযোগিতায় ধর্ষণের ভিডিও করে। এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে এই স্কুল ছাত্রীকে আরও বেশ কয়েকবার ধর্ষণ বখাটে হৃদয়।

স্কুলছাত্রী তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে হৃদয় ও তার সহযোগীরা স্কুলছাত্রীর বাবাকে ভিডিও দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে এবং এ নিয়ে কোন জায়গায় অভিযোগ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আপত্তিকর ভিডিও ফেরত দেওয়ার কথা বলে হৃদয় তার বন্ধু রাসেলসহ তিন যুবক ওই স্কুলছাত্রীকে ছয়বাড়িয়া গ্রামের আতকা বিলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। স্কুলছাত্রীর চিৎকারে গ্রামের এক কৃষক এগিয়ে আসলে ধর্ষক হৃদয় ও তার দলবল স্কুলছাত্রীকে ফেলে চলে যায়।

স্কুলছাত্রী জানায় ধর্ষণ করতে না পেরে হৃদয় ও তার সহযোগীরা স্কুল তাকে বেধড়ক মারপিট করে। স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফিরে দুপুরে ইদুর মারার বিষ পান করে। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনাসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। দরিদ্র পিতা চিকিৎসার ব্যয় ব্যবস্থা করতে না পেরে স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় রাওনা ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুল আলম স্কুলছাত্রীর চিকিৎসার ব্যয়ভারের ব্যবস্থা করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। স্কুলছাত্রীর পিতা বলেন, আমরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। আমার মেয়েকে যারা ধর্ষণ করেছে ও ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে তাদের তাদের বিচার চাই। রাওনা ইউপি চেয়ার সাহাবুর আলম এ জঘন্য ঘটনার বিচার দাবী করে বলেন, বিষয়টি গফরগাঁও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। গফরগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ খান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অফিসার পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে। উৎস: ইত্তেফাক।

ad

পাঠকের মতামত