291999

স্ত্রীকে হত্যা করে আগুনে পোড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন স্বামী

রাজধানীর মুগদায় স্ত্রী হাসি আক্তারকে (২৩) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আগুন দিয়ে পোড়ানোর কথা স্বীকার করেছেন স্বামী কমল হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা সিএসএম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানান তিনি। ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাসুদুর রহমান এ আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার সকালে ১/৩৯ দক্ষিণ মুগদা এলাকার ব্যাংক কলোনি সালামউল্লাহর বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে হাসির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। পরে ওই ঘটনায় নিহতের বাবা মুগদা থানায় মামলা করেন। মামলার পর স্বামী কমল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রেমের সম্পর্কের পর ৮ মাস আগে হাসি ও কমল বিয়ে করেন। এর আগে সুজন নামে মুগদায় বসবাসকারী একজনের সঙ্গে হাসির বিয়ে হয়েছিল। মাদকাসক্তি ও বখাটেপনার অভিযোগ এনে দেড় বছর আগে সুজনকে ডিভোর্স দেন হাসি। ওই সংসারে হাসির ৫ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

কমলকে বিয়ের পর হাসি ছেলেকে নিজের সঙ্গে রাখেন। কমল পুরান ঢাকার নবাবপুরের অটোপার্টসের ব্যবসা করেন। বিয়ের পর তারা ব্যাংক কলোনির ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সাবেক স্বামী সুজন মাদকাসক্ত ও বখাটে হলেও তার মায়ের সঙ্গে হাসির এখনো সুসম্পর্ক থাকায় আগের শাশুড়ি তার নাতিকে দেখতে পাঁচ দিন আগে হাসির বাসায় বেড়াতে আসেন। কিন্তু সুজন ডিভোর্সের বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেননি। এ কারণে প্রায়ই স্থানীয় বখাটেদের দিয়ে সে হাসির বর্তমান স্বামী কমলকে বিরক্ত করত।

গত মঙ্গলবারও সবুজ নামে স্থানীয় এক বখাটে কমলের পায়ে মোটরসাইকেল তুলে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। রাস্তায় লাঞ্ছিত হয়ে কমল বিষয়টি সুজনের মাকে জানালে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এ নিয়ে হাসির সঙ্গে কমলের ঝগড়া হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর বুধবার সকাল ৬টার দিকে নাতিকে নিয়ে বাসা থেকে চলে যান সুজনের মা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসার সামনের থাকা গেস্টরুম ও মাঝখানের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন কমল। পরে কমল সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলে হাসি বেগমকে মেঝেতে মাথা ও দুই পায়ে আগুন জ্বল লাগা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ad

পাঠকের মতামত