289982

বাবা নামের নরপশু

নিউজ ডেস্ক।। মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাদের বিরুদ্ধে মায়েদের মামলা দায়েরের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এবার এমন অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে আলাল হুদা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘ভুক্তভোগীর’ মায়ের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উপজেলার দুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে এবং অভিযুক্ত হুদাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ওই মেয়ে এবং অভিযুক্তকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি জানান, পেশায় অটোরিকশা চালক হুদার তিন মেয়ে। এরমধ্যে তার বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। গেল ৭ মাস ধরে এই মেয়েকে নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন হুদা। নানা আকুতিতেও বাবার নির্যাতন থেকে রেহাই না পেয়ে মাকে জানায় শিশুটি। তার মা প্রতিবাদ করলে তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মা-মেয়ে দু’জনকেই বিভিন্ন সময় মারধর করে হুদা। তবে ওই অত্যাচার নীরবে সহ্য করেন মা-মেয়ে।

এরপরও তা অব্যাহত থাকলে সাতদিন আগে মেয়েদের নিয়ে ঘর ছেড়ে যান মা। পরে স্বামী আলাল হুদার অনুরোধে শুক্রবার বাড়িতে ফিরে আসেন তারা। বাড়িতে আসার পরও স্বামীর ব্যবহার সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে বিষয়টি খুলে বলেন ওই মা। ইউপি সদস্য ঘটনা জানার পর বিকালে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রাত ৯টার আলাল হুদাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে লম্পট পিতা বেল্লাল হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই বছরের মার্চ মাসে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজশাহীতে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মংলা (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে রাজপাড়া থানা পুলিশ।

ওই বছরের ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিজ মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার শাহাদাৎ ওরফে শিশির (৩০) নামের এক পাষণ্ড বাবাকে আটক করে পুলিশ। এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া নিজ মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাবা সা্হেদুল্লাহ চিশতির বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা।

ad

পাঠকের মতামত