‘আলেমের চরিত্রহনন করায়’ নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ
ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা নির্দেশ আসে জেল থেকেই। মামলায় প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ‘একজন আলেমের চরিত্রহনন’ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন। তার এ নির্দেশ পালনের মূল দায়িত্বে ছিল নুর উদ্দিন। দেশজুড়ে আলোচিত এ হত্যার পেছনে কাজ করেছে আরা একটি কারণ। সেটি হলো শাহাদাত হোসেন শামীমের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল নুসরাত। এ দুটি কারণ মিলিয়ে মোট ১৩ জনের পরিকল্পনায় খুন হন নুসরাত।
শনিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। দুপুরে ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় সোমবার নুসরাতের মা এবং ভাই সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার সাত আসামীকে গ্রেপ্তার করে। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে সিরাজ উদ দৌলা ছাড়া বাকিরা হলো সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুকছুদ আলম (৪৫), পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের নুর উদ্দিন (২০), একই গ্রামের ভূঞাবাজার এলাকার শাহাদাত হোসেন শামিম (২০), জাবেদ হোসেন (১৯) ও ছফরপুর গ্রামের হাফেজ আবদুল কাদের (২৫)। ওই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিনের (৩৫), পৌরসভার তুলাতলি এলাকার আবুল বশরের ছেলে যোবায়ের আহম্মেদ (২০)।
তবে যে চারজন নুসরাতের শরীরে আগুন দেয় তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানান বনজ কুমার। সূত্র: দেশ রুপান্তর




