ভারতের নির্বাচনে মুসলমানদের উদ্দেশ্য যা বললেন দিল্লির ইমাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির শাহী জামে মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারী বলেছেন, দেশে অন্যের প্রতি ঘৃণা এবং ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তা আমাদের মৌলিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি সভ্য সমাজে এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ব্যাপার এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে, বিচিত্র ধর্ম-বর্ণের মধ্যে একত্ব হওয়ার যে মূল স্বর্ণালী নীতি এই দেশের ছিল, তার পরিবর্তে যে কোনো ইস্যুতেই সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় ২০১৯ সালের এ লোকসভা নির্বাচনটি এদেশের জনগণের প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার একটি পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে কোন পক্ষকে সমর্থন জানানোর বিষয়টি নির্বাচন করা খুবই কঠিন একটি বিষয়। এ কারণে অনেক আলোচনা ও পরামর্শের পর আমি এবারের নির্বাচনে কোনো পক্ষকেই সমর্থন না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা সব সময় প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন তারা করে না।তিনি বলেন, মুসলমানদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, প্রায় সবগুলো দলই তাদেরকে হতাশ করেছে। তাদের কাছে প্রতিশ্রুতি, বিবৃতি ও ঘোষণার লম্বা একটি তালিকা রয়েছে, কিন্তু তার বাস্তবায়নের হার একেবারেই হতাশজনক। মুসলমানদের সাথে এ ধরনের অন্যায় আচরণের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, এ বারের এ নির্বাচনটি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। আর সে কারণেই দেশের সাধারণ সংস্কৃতি ও সভ্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ নির্বাচনে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে ভারতীয় সংস্কৃতি, জাতীয় সম্মান, সাংবিধানিক সমর্থন, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা ও স্থায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়ের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও তাদের পূর্ববর্তী রেকর্ডের দিকেও লক্ষ্য করতে হবে ভোট দেয়ার সময়।
বিবৃতির শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ভারতীয় জনগণের কাছ থেকে বিশেষ করে মুসলমানদের কাছ থেকে আশা করবো, তারা ভারতের শতাব্দী পুরোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংবিধানের সার্বভৌমত্বের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার প্রতি লক্ষ্য রেখে এ নির্বাচনে ভোট দেবেন।






