287932

নবম শ্রেণির ছাত্রী পূজার পঞ্চ প্রেমের বলি যুবলীগকর্মী লোকমান জনি

নিউজ ডেস্ক।। সবেমাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ছে পূজা। এরই মধ্যে একজন, দু’জন নয়- পাঁচ কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আর এই পঞ্চ প্রেমের প্রথম বলি হলেন যুবলীগকর্মী লোকমান হোসেন জনি (৩২)। জনি পূজার প্রেমিক নয়। পূজার প্রেমিক জয়ের কথিত বড় ভাই। যার পক্ষ হয়ে আটক জয়কে ছাড়াতে গিয়ে পূজার প্রেমিক অনিকের পক্ষের লোকজনের গুলিতে নিহত হয় জনি। শনিবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার ফুলকলি খালপাড় নামক এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, নিহত লোকমান হোসেন জনির মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাকে আনার পর জরুরি বিভাগ থেকে ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লোকমান হোসেন জনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। নগরীর গোলপাহাড় সংলগ্ন বাদশা মিয়া রোডের পশুশালা এলাকায় থাকতেন তিনি। সেখানে একটি কুলিং কর্নার আছে তার। জনি মহানগর যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানান তার ভাই মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন জানান, নগরীর বাকলিয়া এলাকার একটি কেজি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী পূজা। তার সঙ্গে অনিকের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েকদিন আগে জয়ের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক হয় পূজার। এর আগে শ্রাবণ, লক্ষণ ও সাইফুল নামে আরো তিন জনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। কিন্তু জয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠার পর পূজা অনিক ও সাইফুলের সঙ্গে কথা কমিয়ে দেয়। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় তাদের। এ ঘটনায় শনিবার রাতে অনিক ও সাইফুল মিলে জয়কে অপহরণ করে আটকে রাখে। খবর পেয়ে জয়ের কথিত বড় ভাই জনি- বাপ্পিসহ কয়েকজন যুবককে নিয়ে জয়কে উদ্ধার করতে যায়। সেখানে অনিক ও সাইফুল সহপাঠীদের নিয়ে জনি ও তার বন্ধুদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাইফুল জনির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্তের পর জনির মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান মহিউদ্দিন। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ, বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপসহ পুলিশের একটি টিম। কিন্তু ঘটনাস্থলে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসেন তারা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ঘটনার পরই উভয়পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। আমরা রাতভর অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি নগরীর ফুলকলি খালপাড় এলাকার বাসিন্দা অনিক নামের এক কিশোরের সঙ্গে স্থানীয় একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অনিক এইচএসসি প্রথম বর্ষ ও মেয়েটি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সমপ্রতি মেয়েটির সঙ্গে গোলপাহাড় এলাকার জয় নামের আরেক কিশোরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ কারণে মেয়েটি অনিককে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনিক ও তার বন্ধুরা লোকমান হোসেন জনিকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, জয় ও অনিক ছাড়াও মেয়েটির সঙ্গে আরো তিন কিশোরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে বাসায় গেলেও মেয়েটির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই তারা অবস্থান বদল করেছেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।  উৎস: মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত