রাজনীতির বাইরে থেকে এসে যারা রাষ্ট্রনায়ক
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কমেডিয়ান ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাজনীতির প্রচলিত গণ্ডির বাইরে থেকে এসে রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার এমন নজির পৃথিবীতে আরো অনেক আছে। তাদের কেউ অভিনেতা, কেউ সংগীত শিল্পী কেউবা ছিলেন ধনী ব্যবসায়ী। চলুন তাহলে জেনে নেয়া রাজনীতির বাইরে থেকে এসে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া এমন কিছু মানুষের কথা।
টিভি পর্দা থেকে বাস্তবে-ইউক্রেনের জনপ্রিয় একটি টেলিভেশন শো ‘সার্ভেন্টস অব দ্যা পিপল’৷ ভলোদিমির জেলেনস্কি সেখানে শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পর্দার এই ঘটনাকেই এবার বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছেন জেলেনস্কি। সে দেশের প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। পরের ধাপেও তারই বিজয়ী হওয়ার কথা। দেশব্যাপী জনপ্রিয় এই অভিনেতা নির্বাচনী প্রচারে নিজেকে ক্লাউন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
চলচ্চিত্রের রাখাল বালক-ছবির মানুষটিকে চিনতে পেরেছেন? তিনি রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে পালন করেছেন। হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে যিনি রাজনৈতিক নেতা হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
সংগীত শিল্পীর কাঁধে রাষ্ট্রের ভার-১৯৮০’র দশকে হাইতিতে সংগীত শিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মিশেল মার্তেলি। পরিচিত ছিলেন ‘সুইট মিকি নামে। চোখ ধাঁধানো পোশাক আর মঞ্চে প্যান্ট খুলে ফেলার জন্যও পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালে এই মানুষটিই হাইতির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পান। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর তার নেতৃত্বেই আবারো ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয় দেশটি।
পিয়ানিস্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী-পোল্যান্ডের বিখ্যাত পিয়ানিস্ট ও কম্পোজার ইগনাৎসি ইয়ান হনাসে ইয়ান পাদ্যাব়্যাফস্কি৷ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পোলিশ ন্যাশনাল কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। বিশ্বযুদ্ধের পর তাকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। এসময় তিনি পোল্যান্ডের পক্ষে ভার্সাই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অবশ্য দায়িত্ব নেয়ার এক বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দেন পাদ্যাব়্যাফস্কি।
ক্রিকেট থেকে প্রধানমন্ত্রী নিজে কিংবদন্তিতুল্য ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৯২ সালে দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপের ট্রফি। খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৯৬ সালে গঠন করেন নিজের রাজনৈতিক দল। ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পাকিস্তানে সরকার গঠন করেন। ইমরান খান বনে যান দেশটির প্রধানমন্ত্রী৷
বিশ্বখ্যাত ফুটবলার-লাইবেরিয়ার ফুটবলার জর্জ উইয়াহ ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের হয়ে মাঠে লড়েছেন। ১৯৯৫ সালে প্রথম কোনো আফ্রিকান হিসেবে ফিফা বর্ষসেরার খেতাব জেতেন। ফুটবল থেকে অবসরের পর যোগ দেন রাজনীতির মাঠে। ২০০৫ সালে ব্যর্থ হলেও লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১৭ সালে।
কলঙ্কিত গণমাধ্যম টাইকুন-প্রথম জীবনে প্রমোদতরীতে পিয়ানোবাদক ও সংগীত শিল্পীর কাজ করে পড়াশোনার খরচ যোগাতেন। এরপর খ্যাতি কুড়ান আবাসন আর মিডিয়া টাইকুন হিসেবে। কুখ্যাতিও অর্জন করেছেন রাজনৈতিক দল করে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে। যদিও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েননি। ১৯৯৪ সাল থেকে চার দফা তিনি ইটালির সরকারপ্রধান ছিলেন। তিনি হলেন সিলভিও বার্লোসকুনি।
টিভি তারকা হোয়াইট হাউসে-১৯৭০ এবং ১৯৮০’র দশকেই আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিতি পান ট্রাম্প। ২০০৩ সালে তিনি জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘দি অ্যাপ্রেন্টিস’ এর সঞ্চালনা শুরু করেন৷ ২০১৫ সালে লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের সুযোগ পান৷ নির্বাচনি প্রচারের চমক শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পৌঁছে দিয়েছে হোয়াইট হাউসে৷
তরুণদের অনুপ্রেরণা-১৯৯৯ সালে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন উগান্ডার ববি ওয়াইন৷ পরে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব আফ্রিকাতেই৷ ২০১৭ সাল থেকে উগান্ডার সংসদ সদস্য তিনি৷ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসা ইয়োয়েরি মুসাভিনির বিরুদ্ধে তরুণদের তিনি সংগঠিত করতে পেরেছেন৷ ২০২১ সালে তিনি উগান্ডার এই পদের নির্বাচনে তিনি শামিল হতে পারেন৷




