বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা, পরে ওসির মধ্যস্ততায় বিয়ে!
দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন প্রেমিক। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা শুরু করে প্রেমিক। প্রেমিকের বাড়ি থেকে তার বিয়েও ঠিক করে ফেলে অন্য মেয়ের সাথে। প্রেমিকের বিয়ে ঠিক হলে কি হবে, প্রেমিকা তো নাছোড়বান্দা! প্রেমিককে নিজের করে পেতে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে সোজা গিয়ে ওঠেন প্রেমিকের বাড়িতে। টানা ১০ দিন সেখানে অবস্থানের পর অবশেষে স্থানীয় থানার ওসির মধ্যস্ততায় আলোচিত প্রেমিক ও প্রেমিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামে।
জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দী ইউনিয়নের পারভবানীপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে সরকারি আজিজুল হক কলেজর অনার্সের ছাত্র শাকিল আহমেদ একই গ্রামের পাশের বাড়ির দরিদ্র রফিকুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে গত দেড় বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় দৈহিক সম্পর্ক হয় তাদের। বেশকিছুদিন ধরে শাকিলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে প্রেমিকা।
একপর্যায়ে বিয়ের বিষয়ে নানা তালবাহানা করতে থাকে প্রেমিক শাকিল। শাকিলের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ছেলে সাথে ওই মেয়েকে বিয়ে করাতে রাজি না হয়ে দুপচাচিয়া উপজেলায় তার বিয়ে ঠিক করেন।
এদিকে ওই যুবতী বিয়ের কথা জানতে পেরে গ্যাস ট্যাবলেট হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শাকিলের ঘরে ওঠে। প্রেমিকাকে নিজের ঘরে ওঠার খবর শুনে শাকিল আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। পরে শেরপুর থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির জানতে পেরে ছেলের অভিভাবক দিয়ে ছেলে ও মেয়েকে শেরপুর থানায় নিয়ে আসেন। এসময় তিনি দুপক্ষের অভিভাবকদের বুঝিয়ে রাজী করানোর পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েকে বিয়েতে রাজী করান। এরপর গত রোববার রাতে কাজী ডেকে এনে বিয়ে পড়িয়ে দেন।
এরই ধারাবাহিতকায় ছেলে ও মেয়ের অভিভাবকরা সোমবার তাদের গ্রামের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে রেজিষ্ট্রিসহ সকল কার্য সম্পাদন করেন। যেহেতু মেয়ের পরিবার অত্যন্ত গরীব আর ছেলের পরিবার প্রভাবশালী তাই এই বিয়ে সম্পন্ন করায় এলাকাবাসী ওসির প্রসংশায় পঞ্চমুখ। এলাকাবাসী বলছেন, শেরপুর থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির যদি আন্তরিক না হতেন তাহলে এই অসহায় মেয়েটির কপালে চরম দুর্দিন নেমে আসত।




