285605

আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন জয়

ভাইরাল হওয়া ছোট্ট শিশু নাঈমের দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সর্বশেষ ভিডিওবার্তায় জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক-অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় জানিয়েছেন, নাঈমকে কোনো কথা শিখিয়ে দেননি তিনি। তবে এর আগেই, দেশ-বিদেশের অসংখ্য নম্বর থেকে এই অভিনেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে জয় বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমি নাঈমকে কোনো কথা শিখিয়ে দেইনি। এমন কি আমার ইউনিটের কেউই তাকে, কোন ধরনের কথা শিখিয়ে দেয়নি। এতটুকু বাচ্চাকে আমার শিখিয়ে দেওয়ার কিছু নেই।’ যুক্ত করে জয় আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন নম্বরের মাধ্যমে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এরইমধ্যে আমার ফেসবুক আইডিও হ্যাক করা হয়েছে। তাই জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই জিডি করতে আমি থানায় যাচ্ছি।’

এদিকে, গতকাল রাতে জয় তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘কথাগুলো অত্যন্ত জরুরি। কারণ আপনারা সবাই আমার ওপর ক্ষিপ্ত এবং আপনারা আমাকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন দিচ্ছেন, থ্রেট দিচ্ছেন। আমার ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে। আমাকে গালাগালি দিচ্ছেন। কিন্তু আমি একটি কথা আপনাদের খুব দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই যে নাঈম ছেলেটির আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমি সবসময় সাক্ষাৎকারের অনুষ্ঠান করি, কিন্তু আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে নাঈমকে আমি কোনো কথা শিখিয়ে দেইনি। নাঈম বক্তব্য নিজের দায়িত্বে দিয়েছে। কিন্তু সে নিজে কোথাও থেকে শিখে এসেছে কি না আমি বলতে পারব না।’

জাতীয় কোনো নেতা নিয়ে মন্তব্য করার কোনো সাহস নেই জানিয়ে এই উপস্থাপক আরও বলেন, ‘তাদের নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ তারা সবাই সম্মানিত। জাতীয় নেতা যারা বা যারা এক সময় ক্ষমতায় ছিলেন বা এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সবাই সম্মানিত। আমার মতো কোনো ক্ষুদ্র মানুষের তাদেরকে নিয়ে কোনো আলোচনা সাজে না।’ নিজেকে খুবই সাধারণ একজন মানুষ দাবি করে জয় বলেন, ‘আমার সেই জায়গাটা আপনারা ক্ষতি করবেন না। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- সবার কাছে আমি জীবন ভিক্ষা চাই। কারণ আমি যে ধরনের থ্রেট পাচ্ছি সে ধরনের থ্রেট নিয়ে বেঁচে থাকা আসলেই খুবই মুশকিল। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আমাকে ক্ষমা করবেন, ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সময় পানির পাইপের ছিদ্র দুই হাতে চেপে ধরে আলোচনায় ছোট্ট শিশু নাঈম। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নাঈমের সেই ভিডিও দেখে তাকে পাঁচ হাজার ডলার পুরুষ্কারের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে মানবিকতার পরিচয় দেওয়া ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া নাঈমের সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেন টিভি উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। অনুষ্ঠানে নাঈমকে প্রশ্ন করা হয়, পুরস্কারের টাকাগুলো সে নেবে কি না? আর নিলেও সেই টাকা কীভাবে সে খরচ করবে? উত্তরে নাঈম জানায়, টাকাগুলো এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য দান করে দিতে চায় সে। ছেলের এ জবাবে সায় দেন তার মা-বাবাও।

এতিমখানায় কেন টাকা দিতে চায়, এমন প্রশ্নের উত্তরে নাঈম জানায়, কয়েক বছর আগে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করেছে। তাই এই টাকা সে এতিমদের দিতে চায়। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ উঠে, নাঈমকে উপস্থাপক জয় এসব কথা শিখিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

ad

পাঠকের মতামত