279563

নিরাপদ সড়ক চাওয়া ছাত্রের প্রাণ গেলো অনিরাপদ সড়কেই

নিউজ ডেস্ক : গত বছরের এপ্রিল মাসে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তীতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব। জুলাই মাসে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর বাসের চাপায় মারা যান শহীন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী রিয়াজ ও মিম। এসময় দেশজুড়ে নিরাপদ সড়ক দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনে সামিল উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও বিবেকবান নাগরিকরা। বছর গড়ানোর আগেই সড়কে প্রাণ হারাতে হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীকে।

সহপাঠীদের শোকের ওপর আরও কষ্ট, আবরার নিজেও গত বছর নিরাপদ সড়ক দাবিতে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। আজ অনিরাপদ সড়কে প্রাণ হারালেন নিজেই। এভাবে বেপরোয়া পরিবহন চালকদের হাতে মেধাবী সহপাঠীর অকাল মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন কেউই।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে প্রগতি সরণির নর্দ্দা এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন বিইউপি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ জানান, আবরার তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। এ সময় সদরঘাট থেকে গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস আবরারকে চাপা দেয়। তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবরারের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের ওই ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে তিনিও সেই দাবিতে শামিল হয়ে ২ আগস্ট দুপুরে প্রোফাইল পিকচারে সংযুক্ত করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগান। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তুলে ধরার পাশাপাশি সেসময় এই আন্দোলন ঘিরে সংবাদমাধ্যমের অনেক প্রতিবেদন এবং ছবিও শেয়ার করেন আবরার।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার সেই আবরারই সড়কে প্রাণ হারানোয় প্রগতি সরণির নর্দ্দা-কুড়িল চৌরাস্তার মাঝামাঝি সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে নামেন তার সতীর্থরা। এতে সড়কের দুইপাশে দেখা দেয় যানজট। বন্ধ হয়ে যায় বাড্ডা-কুড়িল বিশ্বরোড সড়কে যান চলাচল।

ad

পাঠকের মতামত