অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশের নিয়ম
ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম ধাপের নিরাপত্তা পার হয়ে দ্বিতীয় ধাপের আগে অস্ত্র থাকার ঘোষণা দেন। এরপর গতকাল শর্টগানসহ এক ব্যক্তিকে বিমানবন্দরে আটকের পর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ই মার্চ ঘোষণা ছাড়াই অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশের অভিযোগে যশোরের একজন নেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু বিমানে অস্ত্র পরিবহনের নিয়ম কী?
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক, গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, যেকোনো বিমানে অস্ত্র পরিবহনের কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী:
– প্রথমেই যাত্রীকে বিমানবন্দরের প্রবেশ মুখেই ঘোষণা দিতে হবে যে, তার কাছে অস্ত্র রয়েছে।
– তিনি যে বিমানের যাত্রী, সেই বিমান সংস্থার কাছে অস্ত্র, লাইসেন্স, গুলি সবকিছু জমা দিতে হবে। – বিমান সংস্থা থেকে তাকে একটি রসিদ সংগ্রহ করতে হবে। – এই অস্ত্র এবং গুলি বিশেষ বক্সে করে বিমানের পাইলটের তত্ত্বাবধানে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হবে। – সেখানে বিমানবন্দর থেকে বের হবার সময় তিনি বোর্ডিং পয়েন্ট থেকে নিজের অস্ত্রটি আবার বুঝে নেবেন।
উল্লেখ্য যে, বিমান চলার সময় তিনি কোন ভঅবেই সঙ্গে অস্ত্র রাখতে পারবেন না।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে যাত্রীর আরো কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন যে দেশে তিনি যাচ্ছেন, সেখানে এই অস্ত্র বহনের অনুমতি তার রয়েছে, এরকম প্রমাণ লাগবে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র দরকার হবে যে, তিনি বিদেশে অস্ত্রটি নিয়ে যেতে পারবেন।
তিনি জানান, যেকোনো ব্যক্তি বিমানবন্দরে প্রবেশে করার সময় বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ধাপ পার হয়ে যেতে হয়। যেখানে ব্যক্তির শরীরে তল্লাশির পাশাপাশি তার সঙ্গে থাকা মালামালও স্ক্যানিং করা হয়। কোন অস্ত্র থাকলে এসব নিরাপত্তা ধাপে অবশ্যই ধরা পড়বে। মি. ফারুক বলেন, যদি কোন যাত্রী এরকম ঘোষণা না দিয়ে বৈধ অস্ত্র নিয়ে বিমানবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি একটি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। তখন প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সূত্র-বিবিসি




