শোভনই গণতন্ত্রের শোভা
২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভিপি পদে জয়ী হওয়া নুরুল হক নূর বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ছাত্রলীগ কোন পদেই জয়ী হতে পারতো না। এদিকে গভীর রাতে ডাকসুর ভিপি হিসেবে নুরুল হক নুরুর নাম ঘোষণা ছিল বড় ধরনের চমক। ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে তিন ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
ডাকসু নির্বাচনে হেরে গেলেও ছাত্রলীগ সভাপতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে জয়ে করে নিয়েছেন গণতন্ত্রকামী অগণিত মানুষের মন। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকেল ৪টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে গিয়ে নূরকে জড়িয়ে ধরেন তিনি দায়িত্বশীল আচরণ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ছাত্রলীগ সভাপতি।
এর আগে ডাকসু নির্বাচন ও ফলাফল নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল ক্যাম্পাসে। ঘটেছে ধাওয়া পাল্টাধাওয়। ভিপি পদে পুননির্বাচনের দাবিতে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছিল ছাত্রলীগ। অন্যদিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেয় অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরা। তারা ঘোষণা দেয় ভিপি পদ ছাড়া বাকিগুলোতে পুননির্বাচন দিতে হবে। এ সময় ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগের ধাওয়ার শিকার হন নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরও।
তবে বিকালে ছাত্রলীগ সভাপতি ও ভিপি পদে পরাজতি হওয়া রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঘোষণা দিলেন নুরকে ভিপি হিসেবে মেনে নিয়েছে তারা। ছাত্রলীগ সবাইকে নিয়ে কাজ করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ভোটাররা ভিপি পদে নুরুল হক নূরকে বেছে নিয়েছেন। তাদের রায়ের প্রতি আমি সম্মান জানাচ্ছি। তার সঙ্গে আছি, তাকে নিয়েই শিক্ষার্থীদের যে কোনো অধিকার আদায়ে কাজ করব।’
ডাকসুর নব নির্বাচিত ভিপি নূরকে জড়িয়ে ধরে শোভন বলেন, নূরকে আমি আমার ছোট ভাই বলে মনে করি । সে নিজের যোগ্যতায় ও সাংগঠনিক নৈপূণ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে এই ফল মেনে নিতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে আমি অভিনন্দন জানাই। তাকে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এই অঙ্গীকার করছি।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দেশের সবচেয়ে বড় সংগঠন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। ডাকসু নির্বাচন যারা পরিচালনা করেছেন, তারা আমাদেরই শিক্ষক। তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি আমার পরাজয় মেনে নিচ্ছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, মাথা পেতে নিচ্ছি।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের নির্দেশের পাঁচ মিনিটে মধ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে (ভিসি চত্বর) থেকে চলে সরে গেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শোভনের এমন বক্তব্যের প্রশংসা করছেন সবাই। অনেকেই বলছেন, তিনিই জিতলেন। শোভনই গণতন্ত্রের শোভা।




