274693

সাবধান: দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাবেন না

বকুল আক্তার বকুলী। মানিকগঞ্জের মেয়ে। বকুলের মা মানুষের বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাত। তার বাবা ছিল মাদকাসক্ত। নানান সময় টাকার জন্য বকুলের বাবা তার মাকে মারধর করত। পরিবারের অবস্থা দেখে বকুল বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কথা বলেন, তার বাড়ির পাশে পরিচিত এক মামার সাথে। যার স্ত্রী বেশ কিছুদিন আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন। এরপর সেই মামার পরামর্শে পাসপোর্ট তৈরি করেন বকুল। পাড়ি জমান দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি দুবাই পৌঁছান বকুল।

মামার সহোযোগিতায় এক দালালের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। এরপর দুবাই এয়াপোর্টে ওই দালাল (নাজমা বেগম) বকুলকে তাদের কাছে নিয়ে যান। কাজ দেন এক বাড়িতে। এরপর বকুলের আকামা না করে ওই গৃহকর্তা জানান, বকুলের রোগ আছে। তার ওয়ার্কপারমিট দেওয়া যাবে না। একমাস ভালোভাবে কাজ করেন বকুল। পান একমাসের বেতনও। এর মধ্যে বকুলের মালিক মারা যায়। চাকরি চলে যায় বকুলের।

সে ফিরে আসেন তার সেই দালাল নাজমার কাছে। জানান, তার নতুন চাকরি দরকার। তখন কয়েক লাখ টাকা দাবি করে বসে নাজমা কিন্তু বকুল জানায়, তার পক্ষে আর টাকা দেওয়া সম্ভব না। এরপর নাজমা তার কাছে রাখেন বকুলকে। শুরু হয় নির্যাতন। দিনকে দিন বকুলের ওপর নির্যাতনের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

এরপর দুই দিন পর নাজমা বকুলকে জানায়, তার জন্য একটা কাজ পাওয়া গেছে। খুশি মনেই রাজি হয় বকুল। নাজমা বকুলকে নিয়ে স্থানীয় এক যুবকের কাছে যায়। ওই যুবক জানায়, তিনি বকুলকে তার বাসায় কাজের জন্য নিবে। ভালো বেতনও দিবেন। বকুলের কাজ হবে শুধু তার (ওই ব্যক্তির) বৃদ্ধ বাবাকে দেখাশুনা করা ও তার মেয়ে শিশুর যত্ন নেওয়া।

রাজি হয় বকুল। খুশি মনে চললেন ওই যু্বকের সাথে কিন্তু গাড়িতে উঠেই ওই যুবক বকুলকে খারাপভাবে স্পর্শ করতে লাগে। এরপর বাসায় পৌঁছে বকুল। কিন্তু পৌঁছে কোন বৃদ্ধ বা শিশুকে দেখতে পায় না বকুল। তিনি জানতে চান কোথায় তারা। তখন ওই যুবক জানান, তার কোন বাবা বা মেয়ে নেই। তিনি একাই থাকেন এখানে। আর বকুলকে তিনি এনেছেন ফূর্তি করতে। এরপর কথা পুরোপুরি শেষ না হতেই ওই যুবক ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বকুলের ওপর।

এরপর দিনের পর দিন কাটতে থাকে আর বকুলের ওপর নির্যাতনের পরিমাণও বাড়তে থাকে। ওই যুবকের সাথে যুক্ত হয়েছেন আরও দুইজন। প্রতি রাতে তিন যুবক নির্যাতন চালায় বকুলের ওপর। আর দিনে থাকতে হয় ঘরে বন্দী। এরই মধ্যে একদিন গর্ভবতী হয়ে পড়েন বকুল। জানান ওই যুবককে। কিন্তু তারপরেও কমে না নির্যাতনের পরিমাণ।

শেষমেষ এই জ্বালা থেকে বাঁচার জন্য আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বকুল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। এরপর এই অবস্থা দেখে ওই যুবক বকুলকে আবার ফিরিয়ে দেন নাজমার কাছে। কিন্তু এবারও নির্যাতন কমান না নাজমা। আগের বারের মতোই বকুলের ওপর চলে নির্যাতন। এমনভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর বকুল কৌশলে তার সাথে থাকা আরও চার যুবতীকে নিয়ে পালাতে সক্ষম হন। তারপর বাংলাদেশ দূতাবাসের সহোযোগিতায় দেশে ফিরতে সক্ষম হন তারা।

এরপর পেরিয়েছে বেশ কয়েকটা বছর। কিন্তু এখনও আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেনি বকুল। তিনি এখনও তার পরিচিতদের একটাই কথা বলেন ‘দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাবেন না’। (এই লেখাটি দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ফাঁদ অনুষ্ঠানের অবলম্বনে করা)

ad

পাঠকের মতামত