‘দুই টাকার ছাত্র’ বলে তোপের মুখে ঢাবির হল প্রাধ্যক্ষের ছেলে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়াম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ‘দুই টাকার শিক্ষার্থী’ মন্তব্যের জেরে ছাত্র বিক্ষোভের পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে পরে উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি-না- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে উপাচার্য বাসভবনের সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি যতটুকু জানি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমা চেয়েছেন।’
জানা গেছে, শুক্রবার ফজলুল হক মুসলিম হলের মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার সময় এক শিক্ষার্থীর সাথে প্রভোস্টের ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ নিয়ে প্রভোস্টের সাথে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। প্রভোস্ট আসলে তার ছেলে আরো সাহস পেয়ে বলে উঠে, ‘দুই টাকার স্টুডেন্ট তোমরা আমার কী করবা?’ এ কথা শুনে শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
জুয়েল রানা নামে প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলেন এ হলের একজন শিক্ষার্থী। এ সময় হল প্রভোস্টের ছেলে উদাসীনভাবে যাওয়ার সময় তার পা ওই শিক্ষার্থীর মাথায় লাগে। পরে ওই শিক্ষার্থী প্রভোস্টের ছেলের কাছে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কোন ডিপার্টমেন্টের ছাত্র? তখন প্রভোস্টের ছেলে ক্ষেপে গিয়ে উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘ডিপার্টমেন্ট দিয়ে কী করবেন?’ প্রভোস্টের ছেলের এমন উদ্ধত্য দেখে আশেপাশের অন্যান্য ছাত্ররা ক্ষেপে উঠেন।
এর কিছুক্ষণ পর হল প্রভোস্ট ড. মিজানুর রহমান এসে উপস্থিত ছাত্রদের প্রশ্ন করেন, ‘কে আমার ছেলের সাথে মিস বিহেভ করেছে?’ প্রভোস্ট আসলে তার ছেলে আরো সাহস পেয়ে বলে উঠে, ‘দুই টাকার স্টুডেন্ট তোমরা আমার কী করবা?’ এ কথা শুনে শিক্ষার্থীরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে নানা শ্লোগান দিতে থাকে। এরপর দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসে প্রভোস্টকে উদ্ধার করেন। এ সময় হল অফিসের সামনেই উপাচার্যের সাথে দেখা করে পদত্যাগ করবেন বলে জানা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে যান প্রভোস্ট ড. মিজানুর রহমান। হলের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে জানা গেছে।




