হঠাৎ আলোচনায় তারেক জিয়ার কন্যা জাইমা
তারেক জিয়ার একমাত্র কন্যা জাইমা রহমান। লন্ডনে তিনি বসবাস করেন। সম্প্রতি তার গ্রাজুয়েশন শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির যখন টালমাতাল অবস্থা এবং অস্তিত্বের সংকটে, তখন হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে জাইমা রহমানের নাম।বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় সূত্র বলছে, তারেক জিয়াকে নিয়ে যখন বিএনপিতে অস্বস্তি, দেশীয় সিনিয়র নেতারা যখন তারেকের ব্যাপারে বিব্রতবোধ করছেন ঠিক সেই সময় পাদপ্রদীপে এসেছে জাইমা রহমানের নাম।জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি তারেক জিয়াকে বলেছেন, একমাত্র জাইমা রহমানই পারেন বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করতে এবং তিনি যদি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্ব নিয়ে যে বিতর্ক তার অবসান ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে গ্রেপ্তার হন। বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনি তারেক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। যদিও বিএনপির গঠনতন্ত্রে কোথাও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কোন পদ নেই। কিন্তু তারেক জিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, কাজেই বিএনপির সিনিয়র নেতারা দলের ঐক্যর স্বার্থে বিষয়টিকে মেনে নেন। কিন্তু তারেক জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর দেশে বিদেশে বিএনপি সমলোচিত হয়।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্তের সমলোচনা করে বলেন যে, বিএনপির কি একজন যোগ্য ব্যক্তি ছিল না যে একজন দন্ডিত খুনি এবং স্বীকৃত দুর্নীতিবাজকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলো! বিএনপির ভিতর থেকেও অনেকে মনে করে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বটা ছিল অপ্রাসঙ্গিক। বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তিনি দলের চেয়ারপারসন থাকবেন। গ্রেপ্তার হওয়ার সঙ্গে দলের পদ পরিবর্তনের কোন সম্পর্ক নেই বলেই বিএনপির একাধিক নেতা মনে করেন।
কিন্তু যে কারণেই হোক, তারেক জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা শুরু করেন। তারেক জিয়ার এই পরিচালনা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও সমলোচিত হয়। বিশেষ করে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট তারেকের ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তারা মনে করেন তারেক জিয়া একজন স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারত তারেকের ব্যাপারে প্রচন্ড নেতিবাচক প্রক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
কিন্তু তা সত্বেও বিএনপিতে তারেক জিয়া যেহেতু অত্যন্ত জনপ্রিয় সেজন্য বিএনপি তারেক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রেখেই ২০১৮’র ৩০ সে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনে তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। পক্ষপাতিত্ব এবং নেতৃত্বদানে ব্যর্থ এই অভিযোগও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠে। তৃনমূলে তারেক জিয়ার যে আস্থার জায়গা ছিল সেই আস্থার জায়গাটি নষ্ট হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে বিএনপির ভেতরেই এখন তারেক জিয়াকে হটানোর এবং অবিতর্কিত সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেয়ার দাবী ওঠে।
বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় এখন উনি নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। আবার তারেক জিয়া বিতর্কিত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থা বিএনপি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। কাজেই বিএনপিতে এমন একজন নেতা দরকার যিনি ক্লিন ইমেজের হবেন এবং যাকে নিয়ে দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে কোনো বিতর্ক হবে না। এই প্রেক্ষিতেই জাইমা রহমানের নাম এসেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির থিংক ট্যাংক বলে পরিচিত জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিকল্প নেই। এটা না হলে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন আদায় করা যাচ্ছে না।এই প্রেক্ষিতে তাঁরা পরামর্শ দেন,এমন একজন নেতা নিয়োগের যে তারেক জিয়ার বাইরে কোনো কাজ করবে না। তারেক জিয়ার পরামর্শেই সবকিছু করবেন।
কিন্তু তিনি সামনে থাকবেন তবে এমন একজন ব্যাক্তিকে এটা করতে হবে যার কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যিনি ক্লিন ইমেজের এবং যাকে নিয়ে সাধারন জনগণের মধ্যে সহানুভূতি তৈরী হবে। এ বিবেচনা থেকে তাঁরা মনে করেছেন যে, জিয়া পরিবারের বাইরে থেকে কেউ যদি বিএনপির নেতৃত্বে আসে তাহলে বিএনপিতে ভাঙনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এখনই দলটি নাজুক অবস্থানে আছে।
এ পরিস্থিতিতে তাঁরা মনে করেছেন যে, তারেক জিয়ার পরিবর্তে জাইমা রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা নেতৃত্ব যদি দেয়া হয় তাহলে কর্মীরা উজ্জীবিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিএনপির তারেককে নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা সেটির অবসান ঘটবে এবং বিএনপি নতুন গতি পাবে। এই প্রেক্ষিতেই এ ব্যাপারে তারা তারেক জিয়াকে পরামর্শ দিয়েছেন।
যারা এই পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রয়েছেন, একজন সাবেক সম্পাদক রয়েছেন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা রয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।তবে তারেক জিয়া এ ব্যাপারে কি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।







