হাশরের মাঠে মানুষ উলঙ্গ হয়ে উঠবে, কাফেরগণ চরম অস্হির ও ভয়ে থাকবে
মা হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , মহানবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন মানুষকে উলঙ্গ পদে, উলঙ্গ দেহে ও খাতনাহীন অবস্হায় কবর থেকে হাশরের ময়দানে জমায়েত করা হবে । একথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল ! নারী পুরুষ সকলেই কি উলঙ্গ হবে ? তারা কি একে অপরের প্রতি তাকাবে ? (এরূপ হলে তো খুবই লজ্জার বিষয় ) । উত্তরে তিনি বললেন যে, হে আয়েশা ! কিয়ামতের দিনটি এত কঠিন ও বিপদময় হবে যে , মানুষের মনে একে অপরের প্রতি তাকাবারও খেয়াল হবে না । (বোখারী-মুসলিম ।)
আরেক হাদিসে আছে, নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমরা উলঙ্গ পদে, উলঙ্গ দেহে ও খাতনাহীন অবস্হায় হাশরের ময়দানে জমায়েত হবে । একথা বলে তিনি কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন, ‘প্রথমবার সৃষ্টি করার সময় আমি যেরূপ সূচনা করেছি , দ্বিতীয়বারও আমি তাদেরকে অনুরূপভাবে সৃষ্টি করব ।’ অতঃপর বললেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে পোশাক পরিধান করান হবে ।কেয়ামতের দিন মানুষ অস্হির , দিশেহারার ও ব্যাকুল হয়ে পড়বে । মহান আল্লাহপাক আল-কুরআনে বলেন,
‘জালেমগণ যা কিছু করছে, সে সম্পর্কে তুমি আল্লাহতায়ালাকে অমনোযোগী মনে করোনা । তাদের শুধু সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হচ্ছে, যেদিন তাদের নয়নযুগল হবে বিষ্ফোরিত এবং তারা মাথা উর্দ্ধে তুলে দৈাড়াতে থাকবে ।তাদের দৃষ্টি তাদের নিজেদের প্রতি ফিরে আসবে না । আর তাদের মন হবে তখন অস্হির, ব্যাকুল ও অনুভূতিহীন ।” সূরা ইব্রাহীম ।
সূরা আল-ইমরানে আল্লাহপাক বলেন, ‘সেদিন কিছু কিছু চেহারা হবে খূশীতে হাসোজ্জ্বল ও কিছু চেহারা হবে কালিমাময় ।তাদেরকে বলা হবে ? তোমরা কি ঈমান গ্রহণের পর কাফের হয়েছিলে ? সুতরাং আজ তোমরা কুফরী গ্রহণের কারণে শাস্তি ভোগ কর । আর যাদের চেহারা হবে হাসোজ্জ্বল. তারা আল্লাহর অবারিত রহমেতের মধ্যে থাকবে । আর সেখানে তারা হবে চিরস্হায়ী ।’




