খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ে জুম্মাবারে ‘স্মার্ট’ চোরের জম্পেশ চুরির ভিডিও ভাইরাল
নিউজ ডেস্ক।। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি হলে অভিনব পদ্ধতিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে সবার সামনে দিয়ে হলের একটি কক্ষের ল্যাপটপ, মোবাইল ও মানিব্যাগ থেকে নগদ টাকা নিয়ে গেছে চোর। অথচ চোরের সাজভূষা দেখে ছাত্রদের কারও মনেই হয়নি, উনি চোর। পরনে জিন্স, শরীরে ব্লেজার। আর চোখে চশমা— ভদ্রবেশী চোরের এমন ঘটনা কারও চোখে না পড়লেও হলের সিসিটিভিতে ঠিকই ধরা পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এমএ রশিদ হলের ৩১২ নম্বর কক্ষে।
সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, হলের ছাত্ররা জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ গোসল করে কক্ষে আসছেন, কেউ পাঞ্জাবি-টুপি পরে বের হচ্ছেন। এরই ফাঁকে এসে হাজির একজন। কাঁধে ব্যাগ। যেন আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করে এসেছেন। ঠিক থামলেন ৩১২ নম্বর কক্ষের সামনে। দরজার সামনে বালতি ভেড়ানো। কোনো দিকে না তাকিয়ে লোকটি এগিয়ে গিয়ে কাঁধ থেকে ব্যাগ নামালেন, রাখলেন বারান্দার কার্নিশে। চোখ থেকে চশমা খুলে একটু মুছে নিলেন। ফের চোখে দিয়ে এগিয়ে গেলেন সেই কক্ষের দিকে। তবে, এবার আর সেখান দাঁড়াননি, সোজা আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলেন। এতটাই যে, ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যান।
একই সময়ে দুই ছাত্রকে অন্য কক্ষ থেকে বের হয়ে চলে যে দেখা যায়। আবার দৃশ্যপটে হাজির হন ওই ‘ভদ্রলোক’। টার্গেট ৩১২, বারবার কোমরে হাত দিচ্ছেন। প্রথমে দরজা টেনে উঁকি দিলেন। সামনে থেকে বালতি সরালেন। আবার দরজায় বালতি লাগিয়ে বারান্দায় গিয়ে নিচে কি যেন দেখলেন। শীতে না টেনশনে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু, তিনি দুই হাতের তালুতে সমানে ঘষা দিচ্ছেন। দাঁত দিয়ে নখ কাটার চেষ্টাও করলেন। সবাই তখনও গোসল আর নামাজে যাচ্ছেন। তিনি ৩১২ নম্বর কক্ষের সামনে থেকে আবারও সামনে এসে ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে গেছেন।
বেশ কিছুক্ষণ পরে চুল ঠিক করতে করতে ফিরে এলেন সেই কক্ষের সামনে। না থেমেই বারান্দার কার্নিশের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। পকেটে হাত দিয়ে এদিক-ওদিক করার পর এবার সরাসরি ওই কক্ষে ঢুকলেন। প্রায় সোয়া এক মিনিট তিনি কক্ষের ভেতরে অবস্থান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ে কক্ষ থেকে যেসব মালামাল নিতে হবে, তা জড়ো করেন। বারান্দায় রাখা ব্যাগ নিয়ে কক্ষে যান লোকটি। এরপর একবার খালি হাতে বাইরে আসেন। সবকিছু দেখার পর পকেট থেকে মোবাইল বের করেন এবং ফের ওই কক্ষে ঢুকে পড়েন।
এবার ডান হাতে ব্যাগ আর বাম হাতে মোবাইল কানে নিয়ে বের হন। হাসিমুখে কথা বলছেন। এ সময় পাশের কক্ষের একজন নামাজের জন্য বের হন। তা দেখে তিনি কিছুটা কক্ষের সামনেই থামেন। তিনি চলে যাওয়ার পর লোকটি এক পা দু’পা করে এগিয়ে যান। এক পর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে পড়েন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে লোকটি যখন হলে ঢুকতে চান, নিরাপত্তাকর্মী তাকে আটকান। সাবলীলভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার ভাগ্নের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে জানান। তিনি তিনতলার একটা কক্ষের নম্বর এবং এক ছাত্রের নামও নিরাপত্তাকর্মীকে বলেন।
ওই নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্যে, কথিত ভাগ্নেকে ফোন করে লাউড স্পিকার দেন। তখন মোবাইলের অপর পাশ থেকে বলা হয়, মামা, আমি গোসলের জন্য টাওয়েল পরা, নিচে নামতে পারব না। উপরে আসেন। আমি তখন তাকে ছেড়ে দেই। এরপরই উপরে গিয়ে লোকটি সুচারুভাবে ৩১২ নম্বর কক্ষ থেকে দুটি ল্যাপটপ (চার্জারসহ), দুটি মোবাইল, টেবিলের ড্রয়ার খুলে মানিব্যাগ থেকে হাজার তিন হাজার টাকা নিয়ে চলে যান, যেটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে। জানা গেছে, লোকটি যখন চুরি করছিলেন, তখনও ওই কক্ষে এক ছাত্র ঘুমাচ্ছিলেন। তার নাকের ডগা দিয়েই তিনি এমন দুসাহসিক চুরি করেছেন।
যাওয়ার সময় ফের গেটে সেই নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে মিষ্টি হাসি বিনিময় করে সালাম দিয়ে বলেছেন, মামা, আসি। এ ছাড়া যে ক’জনের সঙ্গে হলে দেখা হয়েছে, সবার সঙ্গেই হাসিমুখে সালাম বিনিময় করেছেন। সবাই ভেবেছে কারও অতিথি হবেন। এ বিষয়ে খান জাহান আলী থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘হল থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’ তবে চুরিকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি শফিকুল ইসলাম।
উৎস: পরিবর্তন।




