256198

শিক্ষকদের পেছনে সময় নষ্ট না করে রাঘব বোয়াল ধরুন

একেক সরকারের একেকটা প্রায়োরিটি থাকে। ২১ বছর পর ১৯৯৬ ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি ছিলো বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের মূল প্রায়োরিটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। তৃতীয় মেয়াদের মূল নজর ছিল উন্নয়নে। আর শেখ হাসিনার চতুর্থ দফার মূল প্রায়োরিটি দুর্নীতি দমন। নির্বাচনী ইশতেহারেও শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন সরকার গঠনের পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলছেন। মন্ত্রিসভায়ও এবার দারুণ চমক ছিলো। শেখ হাসিনা তুলনামূলকভাবে তরুণ ফ্রেশ ও ক্লিন ইমেজের লোকদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার মন্ত্রীদের বলে দিয়েছেন, সবাই তার কঠোর নজরদারিতে থাকবেন। দুর্নীতি দমন কমিশনও নব উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। নতুন কয়েকজন পরীক্ষিত কর্মকর্তা যুক্ত হয়েছেন কমিশনে। দুদক এখন দারুণ কর্মচঞ্চল। তবে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেড়িয়ে আসছে অজগর সাপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পিয়নের শত কোটি টাকার সম্পদের বিবরণ এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। দুর্নীতিবাজরা রীতিমতো আতঙ্কিত। কোথায়, কখন দুদক হানা দেয়, সেই ভয়ে ঘুম হারাম অনেকের। এমনকি দুদকের পরিচালকও ছাড় পায়নি এ অভিযান থেকে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই সর্বাত্মক অভিযানে স্বস্তি আসছে সাধারণ মানুষের মনে। কারণ এই দুর্নীতির কৃষ্ণগহ্বরে হারিয়ে যায় আমাদের অনেক অর্জন। তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। দুদকের ভুল তদন্তের শিকার হয়ে তিনবছর ধরে কারাভোগ করছে নিরীহ শ্রমিক জাহালম। দুদকের একটু ভুলে ধ্বংস হতে বসেছে জাহালমের পরিবার। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে জাহালম ভুল লোক। এখন এই নিরীহ জাহালমের তিন বছর কে ফিরিয়ে দেবে? দায় কার? আমি দাবি করছি, জাহালমকে যেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।

হাসপাতালে ডাক্তার আছে কিনা বা স্কুলে শিক্ষক আছে কিনা; সেটাও দুদক দেখতে পারে। তবে এইসব চুনোপুটিদের পেছনে সময় নষ্ট না করে দুদক যেন রাঘব বোয়ালদের দিকে নজর দেয়। ব্যাংক, শেয়ারবাজার বা বড় প্রকল্পের দুর্নীতির পেছনে লাগলে দেশের আরো বেশি লাভ হবে। সরকারি দলের নেতারাও যেন দুদকের জালের বাইরে না থাকে। কারণ আওয়ামী লীগ গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায়। এই সময়ে কাদের আঙ্গুল ফুঁলে বটগাছ হয়েছে, সেটা খুঁজলেই দুদক পেয়ে যাবে অনেক রাঘব বোয়াল। গত তিনটি নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলেই বেরিয়ে আসবে অনেক ক্লু। তেমন রাঘব বোয়ালদের ধরলেই দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন পাবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে সাধারণ মানুষকে পাশেই পাবে দুদক। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

ad

পাঠকের মতামত