সরকারি মেডিকেল কলেজে ভারতীয় ১৫ ভুয়া মেধাবী!
নিজস্ব প্রতিবেদক : সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ কোটায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন ভারতীয় ‘ভুয়া মেধাবী’ শিক্ষার্থী। শিক্ষাগত যোগ্যতার ভুয়া সনদ ও জাল নম্বরফর্দের মাধ্যমে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ভারতশাসিত কাশ্মিরের এসব শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে লাখ লাখ টাকা গোপন লেনদেনের মাধ্যমে তাদের ভর্তি করা হয়। গত ২৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকের (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) কাছে ভারতের জোনাল হেড কোয়ার্টার ক্রাইম ব্রাঞ্চ শ্রীনগর, কাশ্মির থেকে দেয়া এক চিঠিতে থেকে ১৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জাল নম্বরফর্দে ভর্তির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে অনুরোধ জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
কাশ্মির থেকে প্রকাশিত ‘গ্রেটার কাশ্মির’ নামে একটি দৈনিকে ফাহিম রশিদ নামে এক শিক্ষার্থী প্রথম অভিযোগ জানান, তার ব্যাচের আটজন সার্ক কোটায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে যারা মেধাতালিকা প্রথম ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যেও নেই। তার অভিযোগের পরই কেঁচো খুঁজতে বেরিয়ে সাপ বেরিয়ে আসার মতোই বেরিয়ে আসে ১৫ ভুয়া মেধাবীর জাল নম্বরফর্দ দেখিয়ে বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির তথ্য।
যে ১৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে দীক্ষা দেবী ঢাকা মেডিকেলে, ফজর ফারুক, তায়েবা আফতাব, সাকিরা শওকত ভাট ও আহমেদ মুশফিক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেলে, সৈয়দ তাবিশ মঈন, সোহায়েব জাহুর, আদিবা রউফ ও ইফরা নায়েক শহীদ সোহরোওয়ার্দী মেডিকেলে, তোবা শাহ, হাশিম শওকাত লাহারওয়াল ও হুদা ওয়ানী ময়মনসিংহ মেডিকেলে, জিসান মেহেদি হোসাইন, হানান গণি ও ফাতিমা শিকদার ওয়ানি রংপুরে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদ বলেন, সার্ক কোটায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। সেখান থেকে আবেদনপত্র ও সার্টিফিকেট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আসে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে সার্ক ও নন সার্ক কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য একটি কমিটি রয়েছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (চিকিৎসা শিক্ষা) ও তিনি যথাক্রমে এ কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব। এ কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তারা যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুপারিশ করেন। কমিটির কাউকে উৎকোচ দিয়ে ভর্তির কোনও সুযোগ নেই।ভারতীয় ১৫ জন শিক্ষার্থীর জাল সনদে ভর্তির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত করে দেখছে। উৎস: অনলাইন।




