254711

শুধু ভ্যাম্পায়ার নয়, মানুষের রক্ত পান করে মানুষ নিজেও!

ভ্যাম্পায়ার বা রক্তচোষা একটি পৌরাণিক ও লোককথার একটি প্রাণী যারা জীবিত প্রাণীর রক্ত খেয়ে বাঁচে। ভ্যাম্পায়ার অনেক সংস্কৃতিতে দেখা যায়। ইতিহাসবিদ ব্রায়ান ফ্রস্ট বলেন, রক্তচোষা দৈত্য ও ভ্যাম্পায়ারে বিশ্বাস মানুষের অস্তিত্বের মতোই একটা পুরানা ব্যাপার।ভ্যাম্পায়ার শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ১৮ শতকের প্রথম দিকে। পূর্ব ইউরোপ ও বলকানসের ধরনের কুসংস্কার বেড়ে ওঠে। ভ্যাম্পায়ার কুসংস্কারের মাত্রা যতই বাড়তে থাকে মানুষের মাঝে মাস হিস্টেরিয়া বাড়তে থাকে।ব্রাম স্টোকারের ড্রাকুলা উপন্যাস স্বরণ করা যায় ভ্যাম্পায়ার সাহিত্য হিসেবে। এই বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, এমনকি এই শতাব্দীতেও এটা সমান জনপ্রিয়। অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধানে শব্দটি ১৭৩৪ সালে স্থান পায়।

ভ্যাম্পায়ার, ড্রাকুলা— এদের নাম শুনলেই ভয়ে কেমন আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যায়। কারণ, এরা মানুষের রক্ত পান করে।একজন সুস্থ-সতেজ যুবক বা যুবতীর তাজা রক্তের খোঁজে, রাতের অন্ধকারে তারা বের হয়। এবং যার রক্ত পান করে, সেও ওই একই পথের পথিক হয়ে যায়। সত্যিকারের এমন ভ্যাম্পায়ার রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। তবে ভ্যাম্পায়ার নিয়ে হলিউডে বেশ কিছু ভয়ের ছবি তৈরি হয়েছে এ যাবৎ।কিন্তু, চিকিৎসাবিজ্ঞান এক তথ্য উল্লেখ করেছে, যাতে প্রমাণিত হয়েছে যে অনেক মানুষই রয়েছে যারা রক্ত পান করতে ভালবাসে। এবং সেই রক্ত মানুষের না হলেও চলে। কোনও পশুর রক্ত পান করতেও তাদের অসুবিধা হয় না।

কাহিনির ড্রাকুলা রক্ত পান করে বেঁচে থাকার তাগিদে। কিন্তু, এই সব রক্তপায়ী মানুষের এমন ইচ্ছে একেবারেই শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। ‘হেল্‌থলাইন.কম’ নামে এক ওয়েবসাইটের নিউজলেটারে বলা হয়েছে যে, বেঁচে থাকার জন্য যারা রক্ত খায়, তাদের ‘স্যানগুইনারিয়ান’ বলা হয়। আর রক্ত খাওয়ার ইচ্ছেকে বলা হয় ‘রেইনফিল্ডস সিনড্রোম’।সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তুরস্কে এক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল, যিনি বলেছিলেন, তাঁর কাছে রক্ত পান করাটা শ্বাস নেওয়ার মতোই জরুরি। তিনি নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে রেজার চালিয়ে রক্ত সঞ্চয় করে তা পান করতেন।

ওই প্রতিবেদনে এক মহিলা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি নিজের মুড ঠিক রাখার জন্য প্রতি দিন এক লিটার করে শুয়োরের রক্ত খেতেন।প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত সঠিক ভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি গবেষকরা, কেন এই রক্তপিপাসা পায় মানুষের। তবে, স্যানগুইনারিয়ান-দের মতে, এই তৃষ্ণা শরীরের তুলনায় মনেরই বেশি।

ad

পাঠকের মতামত