বাবার সাথে বাড়ি ফেরা হলো না তাদের
বাবার সাথে আর বাড়ি ফেরা হলো না পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন (১১) ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফছারের (৮)। এই দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ঘাতক ট্রাক চালক।সোমবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের রজেন্দ্রপুর এলাকায় এ মর্মান্তিরক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাদের বাবা মোঃ সামসুল আলম ডালিম (৪০)।জানা যায়, তারা দুই ভাই-বোন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার কসমো-মেট্রোপলিট্রন ল্যাবরেটরী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে স্কুল ছুটি শেষে প্রতিদিনের মতো বাবার সাথে মোটর সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল তারা।
তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি রাজেন্দ্রপুরের মোল্লারপুল এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ পিছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-১৬-১৯৪৭) তাদের চাপা দেয়। ঘাতক ট্রাক চলক পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আফরিন ও তার ভাই আফছার মারা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দৌড়ে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় তাদের পিতা সামসুল আলম ডালিমকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।নিহতদের বাবা সামসুল আলম ডালিম এলাকাবাসী ও তাদের সহপাঠীরা ঘতক ট্রাক চালককে আইনের আওয়ায় এনে ফাঁসির দাবি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ঘটনায় নিহতদের সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় মানববন্ধন করেন। নির্দিষ্ট বিচার না হওয়া পর্যন্ত মানবন্ধনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলে সাংবাদিকদের জানান।দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মুনসুর আহমেদ জানান, স্কুল ছুটির পরে প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার ভাইবোনকে নিয়ে তাদের বাবা সামসুল আলম ডালিম মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তারা এ দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের বাড়ি রাজেন্দ্রপুরের হাটখোলা গ্রামে। ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী আফরিন ও আফছার মারা যায়। তার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেরাণীগঞ্জ সার্কেল রামানন্দ সরকার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নিহত দুই ভাইবোনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ট্রাক আটক করা হয়েছে ও ঘাতক ট্রাক চালককে আটকের জন্য আইগত ব্যবস্থা চলছে।




